Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও কেন হার্ট অ্যাটাক হতে পারে? জেনে নিন, ভারতীয়দের জন্য এই পরীক্ষাগুলো করানো কেন জরুরি

রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও কেন হার্ট অ্যাটাক হতে পারে? জেনে নিন, ভারতীয়দের জন্য এই পরীক্ষাগুলো করানো কেন জরুরি

press CARD NEWS 2 weeks ago
হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি শুধু রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের উপরই নির্ভর করে না। ডাক্তার তরুণ কুমারের মতে, তরুণদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সতর্ক থাকাটা জরুরি। আপনি শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেও, একটি পরীক্ষা করানো অপরিহার্য।আপনার রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরল স্বাভাবিক থাকলেও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন যে, হার্ট অ্যাটাকের জন্য শুধু রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলই দায়ী নয়। কিছু জিনগত কারণও হৃৎপিণ্ডের শিরাগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এর ফলে হৃৎপিণ্ডের শিরায় প্লাক জমতে পারে, যা হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে, প্রত্যেকেরই জীবনে একবার সময়মতো এই জিনগত কারণটি পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উচিত।

মেদন্তা মেডিসিটি হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের পরিচালক, অধ্যাপক ডঃ তরুণ কুমার ব্যাখ্যা করেছেন যে, ভারতীয়দের কোলেস্টেরল বা রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকলেও, এটি হার্ট অ্যাটাক হবে না এমন কোনো নিশ্চয়তা দেয় না। হার্ট অ্যাটাকের জন্য আরও অনেক কারণ দায়ী। উচ্চ মাত্রার লাইপোপ্রোটিন (এ)-ও হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে, যা একটি প্রায়শই অজানা ঝুঁকির কারণ।

ডঃ তরুণ কুমার ব্যাখ্যা করেন যে, ভারতীয়দের শরীরে লাইপোপ্রোটিন (এ)-এর মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। এটি এক ধরনের জেনেটিক কোলেস্টেরল যা বাবা-মায়ের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া যায়। এর উচ্চ মাত্রা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

লাইপোপ্রোটিন (এ) কেন হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়?

উচ্চ মাত্রার লাইপোপ্রোটিন (এ) হৃৎপিণ্ডের ধমনীতে প্লাক জমা করতে পারে। এটি হৃৎপিণ্ডের ধমনীগুলোকে সংকুচিত করে এবং রক্ত ​​জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়ায়। এর ফলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে, সময়মতো এটি পরীক্ষা করানো এবং নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

লিপোপ্রোটিন পরীক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আনুমানিক প্রতি ৪ জন ভারতীয়ের মধ্যে ১ জনের লিপোপ্রোটিনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। এই পরিসংখ্যানটি PUDMED-এর গবেষণার উপর ভিত্তি করে তৈরি। গবেষণাটি থেকে জানা যায় যে, কখনও কখনও স্বাভাবিক রক্তচাপ এবং স্বাভাবিক কোলেস্টেরল থাকা সত্ত্বেও, শুধুমাত্র Lp(a)-এর মাত্রা বেড়ে গেলেই হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

লিপোপ্রোটিন (a) পরীক্ষা কীভাবে করা হয়?

ডঃ তরুণ ব্যাখ্যা করেন যে, লিপোপ্রোটিন (a) পরীক্ষা জীবনে একবারই করা উচিত। এটি একটি জেনেটিক প্যারামিটার, তাই এর মাত্রা জীবনভর তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকে। প্রাথমিক পরীক্ষায় যদি এর মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ধরা পড়ে, তবে ডাক্তাররা সেই অনুযায়ী চিকিৎসার পরিকল্পনা তৈরি করতে পারেন।

ডঃ তরুণ ব্যাখ্যা করেন যে, লিপোপ্রোটিন (a) পরীক্ষাও একটি রক্ত ​​পরীক্ষা। এর জন্য খালি পেটের প্রয়োজন নেই। ভারতে, ল্যাবের উপর নির্ভর করে এর খরচ ৮০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এই পরীক্ষাটি সরকারি হাসপাতালেও করা যেতে পারে।

ভারতীয়দের কেন আরও সতর্ক হওয়া উচিত?

ডঃ তরুণ ব্যাখ্যা করেন যে, ভারতীয়দের মধ্যে কম বয়সেই হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে। ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের মধ্যেও এই রোগ দেখা যাচ্ছে। এর একটি প্রধান কারণ হলো জীবনযাত্রার পরিবর্তন। অতীতের তুলনায় খাদ্যাভ্যাসের উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটেছে। মানুষ বেশি ফাস্ট ফুড খাচ্ছে, পর্যাপ্ত ঘুম পাচ্ছে না এবং মানসিক চাপে ভুগছে। এই সমস্ত কারণই কম বয়সে হার্ট অ্যাটাকের জন্য দায়ী।

হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে কী করবেন

জীবনে অন্তত একবার লাইপোপ্রোটিন (এ) পরীক্ষা করান।

রক্তে শর্করা এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

প্রতিদিন অন্তত ৩০-৪৫ মিনিট ব্যায়াম করুন।

মানসিক চাপ এড়িয়ে চলুন।
Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Presscard News