বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে সাসপেন্ড থাকা এই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন শাখা (এসিবি)-র তদন্ত, একাধিক এফআইআর এবং নির্দিষ্ট কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটির পেশ করা রিপোর্টে বিরূপাক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত আর্থিক ও প্রশাসনিক দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
স্বাস্থ্য ভবনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১৬ নভেম্বর ২০২২ সালে বিরূপাক্ষ বিশ্বাস 'বন্ড এসআর' (সিনিয়র রেসিডেন্ট) হিসাবে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। নিয়ম ও চুক্তি অনুযায়ী, এখন তাঁকে ইন্ডেমনিটি বন্ডের শর্ত মেনে প্রতি বছরের জন্য ১০ লক্ষ টাকা করে মোট ২ বছরের ২০ লক্ষ টাকা সরকারকে ফেরত দিতে হবে।
বিরূপাক্ষ বিশ্বাস যাতে ভবিষ্যতে আর কখনও কোনও সরকারি চাকরিতে যোগ দিতে না পারেন, সেই নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ জানিয়ে ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিলকে একটি বিশদ রিপোর্ট পাঠাচ্ছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। আরজি কর-কাণ্ডের পর থেকেই স্বাস্থ্যক্ষেত্রের 'উত্তরবঙ্গ লবি' এবং থ্রেট কালচারের অন্যতম মাথা হিসেবে নাম জড়িয়েছিল এই চিকিৎসকের। স্বাস্থ্য ভবনের এই নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তার ও চিকিৎসা মহলের একাংশ।
আরজি করের ক্রাইম সিনে দেখা গিয়েছিল বিরূপাক্ষকে। আরজি কর কাণ্ডের পর একাধিক অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। আরজি করের তৎকালীন প্রিন্সিপাল সন্দীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ বলেও পরিচিত ছিলেন বিরূপাক্ষ। সন্দীপ ঘোষ, অভীক দে-র সঙ্গেই একসারিতে আরজি কর কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠে এসেছিল বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের।
কয়েকদিন আগেই চিকিৎসক অভীক দে-র বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তে নির্দেশ দিয়েছিল স্বাস্থ্য দফতর। কীভাবে তিনি পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন কোর্সে সার্ভিস কোটা ব্যবহার করে সুযোগ পেয়েছিলেন, তারও তদন্ত করতে বলা হয়েছিল। আরজি কর ফাইল খুলতেই বিনীত গোয়েল-সহ তিন আইপিএসকে সাসপেন্ড করা হয়। অভিযুক্ত সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর এবারে চাকরি গেল বিরূপাক্ষের।

