এসবের মাঝেই বেলেঘাটার বিধায়ক তথা মমতার তৃণমূলের অন্যতম মুখ কুণাল ঘোষ সেখানে হাজির হন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন ওই শিবিরের আইটি সেলের প্রধান উপাসনা চৌধুরীও। দরজায় তালা লাগানো বলে কার্যালয়ে ঢুকতে পারেননি কুণাল ও সঙ্গে থাকা লোকজন। ঋতব্রত শিবিরকে কটাক্ষ করে এই ঘটনাকে 'দুর্ভাগ্যজনক' বলে জানিয়েছেন কুণাল ঘোষ। তাঁর প্রশ্ন, 'যারা এসেছিলেন, তাঁরা কি নির্দল প্রতীকে জিতেছেন? বেলেঘাটার বিধায়ক বলেন, "যাঁরা এখানে এসেছেন তাঁরও তৃণমূলের প্রতীকে ভোটে নির্বাচিত। ফলে তাঁরা এসেছেন। কিন্তু, কেউ কেউ এই পার্টি অফিসে কতদিন পর এলেন সেটা বলা যাবে না। কেন সন্ধ্যে বেলা এলেন সেটাও ভাবার বিষয়। আমি কোনও দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করব না। শুধু বলতে চাই, পার্টির বহু কর্মী সমস্যায় রয়েছেন। তাঁরা যদি সেইসব কর্মীদের দিকে নদর দেন তাহলে উপকার হয়।"
এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় প্রগতি ময়দান থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। কার্যত গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। যাতে কোনও ঝামেলা-বিবাদ না হয়, সেদিকে নজর রেখেই নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করা হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক ও দলীয় কোষাগার কাদের দখলে থাকবে, তাই নিয়ে কার্যত দড়ি টানাটানি চলছে দুই শিবিরে। বৃহস্পতিবারেই দিল্লীতে নির্বাচন কমিশনের ফুলবেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করেন ঋতব্রত-সহ অন্যান্যরা। তাঁরাই আসল তৃণমূল, এটা জানিয়ে আসেন। এরপর দিল্লী থেকে ফিরেই শুক্রবার তৃণমূল ভবনে পৌঁছে যান ঋতব্রতরা। বিরোধী দলনেতা জানিয়ে দিলেন, "আমরাই তৃণমূল, এটাই আমাদের কার্যালয়।' শনিবার থেকেই এই কার্যালয়ে কাজ শুরু হয়ে যাবে বলেই জানা গিয়েছে ঋতব্রত শিবির সূত্রে।
জানা গিয়েছে, এদিন বাইপাসের ধারেই একটি হোটেলে প্রথমে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের বৈঠক হয় বাড়ির মালিক মন্টু সাহার ছেলে অমিত সাহার সঙ্গে। সেই বৈঠকেরই পরেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, আখরুজ্জামান, সন্দীপন সাহা, ফিরহাদ হাকিমদের রাস্তা দিয়ে হাঁটতে দেখা যায়। বাইপাসের ধার দিয়ে তাঁরা কোথায় হেঁটে চলেছেন? সেই প্রসঙ্গে ঋতব্রত বলেন, "পথই পথ মিলিয়ে দেয়।' এরপরই দেখা যায়, তৃণমূলের আদি কার্যালয়ের সামনে গিয়ে পৌঁছন তাঁরা। শুধু তাই নয়, একে একে সেই কার্যালয়ের ভিতর ঢুকে বসেন ঋতব্রত, ফিরহাদরা। তাহলে কি ওই কার্যালয় দখল নিল ঋতব্রত শিবির? সেক্ষেত্রে তাঁরা ফের জানিয়ে দেন, "আমরাই আসল তৃণমূল।' ফিরহাদ হাকিম জানান, 'নিজেদের কার্যালইয়েই এসেছি।' কোষাধ্যক্ষ আখরুজ্জামান আনসারি বলেন, 'এই ভবন তৃণমূল কংগ্রেসের আবেগ।' কেন নেই মমতার ছবি? জবাবে ঋতব্রত বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের পরামর্শদাতা। আর কিছু বলতে চাই না।"
শাসক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার আগে থেকেই বাইপাসের ধারের এই বাড়িই ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের কার্যালয়। ওই অফিসেই আনাগোনা ছিল দলের শীর্ষ নেতৃত্বের। নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে সর্বদা গমগম করত ওই বাড়ি। বাড়ির মালিক মন্টু সাহা এবং তাঁর ছেলে অমিত সাহার অভিযোগ ছিল, দিনের পর দিন বাড়ি আটকে রেখেছে তৃণমূল। এমনকি তাঁদের ফোনটাও কেউ ধরছে না। বাড়ি ফেরত না পেলে তাঁরা আইনি পথে হাঁটবেন, সেই কথাও জানিয়েছিলেন।
এরই মাঝে শুক্রবার সন্ধ্যায় এই ঘটনা। যা নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এই ঘটনায় মমতার তৃণমূল যে আরও বিপাকে পড়ল, সেকথাই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।

