Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
যাদবপুরে ফের রাজনৈতিক উত্তাপ, ৯ সেপ্টেম্বর 'গেরুয়া সম্মান যাত্রা'

যাদবপুরে ফের রাজনৈতিক উত্তাপ, ৯ সেপ্টেম্বর 'গেরুয়া সম্মান যাত্রা'

press CARD NEWS 3 days ago
রাখি পূর্ণিমার দিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে জাতীয় পতাকা হাতে জমায়েত এবং 'বন্দে মাতরম' স্লোগান ঘিরে যে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছিল, তার রেশ এখনও কাটেনি। এর মধ্যেই আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ফের যাদবপুরকে কেন্দ্র করে বড় কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। গোলপার্ক থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত 'গেরুয়া সম্মান যাত্রা' করার ঘোষণা করা হয়েছে।
কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।

আয়োজকদের ঘোষণা অনুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বরের মিছিল শুরু হবে গোলপার্ক থেকে। এরপর ঢাকুরিয়া হয়ে তা পৌঁছবে যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ডে। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে জাতীয়তাবাদী চিন্তার প্রসার এবং প্রশাসনিক নজরদারি আরও জোরদার করার বার্তা দিতেই এই কর্মসূচি বলে দাবি আয়োজকদের।

এর আগে রাখি পূর্ণিমার বিকেলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যাদবপুর থানা পর্যন্ত এলাকায় '১০ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরম' কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। রাস্তার দু'পাশে বিপুল সংখ্যক মানুষের জমায়েত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে সাম্প্রতিক একাধিক বিতর্কের প্রতিবাদেই ওই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল বলে আয়োজকদের বক্তব্য। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

সেই সভা থেকেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে সরব হন তিনি। তৃণমূল কংগ্রেসের পাশাপাশি অতীতের বাম শাসনেরও সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, বাম আমলে বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কিংবা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো মনীষীদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হত না। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে বামপন্থীদের কথিত মন্তব্যেরও উল্লেখ করেন তিনি।

যাদবপুরের হস্টেলগুলিতে 'থ্রেট কালচার' বা ভয় দেখিয়ে প্রভাব বিস্তারের পরিবেশ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ পড়ুয়াই দেশপ্রেমিক ও রাষ্ট্রবাদী মনোভাবের। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী সাধারণ পড়ুয়াদের ভয় দেখিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধ্য করছে।

বক্তব্যে 'আজাদি' স্লোগান এবং চে গুয়েভারার প্রতীক ব্যবহারের প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। একইসঙ্গে রাজ্যের চাকরি-দুর্নীতি ও নিয়োগ সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়ে সংশ্লিষ্ট ছাত্রগোষ্ঠীর অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র স্বপ্নদীপ কুণ্ডুর অস্বাভাবিক মৃত্যুর প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। র‍্যাগিং-বিরোধী অবস্থানকে সামনে রেখে নিজের অতীত অভিজ্ঞতার কথাও জানান শুভেন্দু। তাঁর দাবি, অতীতে র‍্যাগিংয়ের প্রতিবাদ জানাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে তাঁর গাড়ির উপর হামলার চেষ্টা হয় এবং তাঁকে 'গো ব্যাক' স্লোগান দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় মাওবাদী পরিচয় দেওয়া কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হলেও পরে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

শুভেন্দুর আরও অভিযোগ, তৃণমূল ও বামেদের মধ্যে অতীতে রাজনৈতিক সমঝোতা ছিল এবং বিজেপিকে আটকাতেই সেই সমীকরণ কাজে লাগানো হয়েছে। যদিও তাঁর এই অভিযোগের রাজনৈতিক বিরোধিতাও রয়েছে।

সব মিলিয়ে, রাখি পূর্ণিমার কর্মসূচির পর ফের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কর্মসূচির ঘোষণা ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ৯ সেপ্টেম্বরের 'গেরুয়া সম্মান যাত্রা' ঘিরে দক্ষিণ কলকাতার রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে আলোচনা।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Presscard News