Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
কালীঘাটে 'নজরবন্দি'র টানটান নাটক: বারুইপুর যাওয়ার মুখে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে নজিরবিহীন পুলিশি ঘেরাটোপ!

কালীঘাটে 'নজরবন্দি'র টানটান নাটক: বারুইপুর যাওয়ার মুখে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে নজিরবিহীন পুলিশি ঘেরাটোপ!

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে এক নাবালিকার মর্মান্তিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নজিরবিহীন উত্তেজনা তৈরি হলো। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তপ্ত হয়ে উঠল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবন চত্বর। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তীব্র অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, বারুইপুরে নির্যাতিতার পরিবারের সাথে দেখা করতে যাওয়ার ঠিক আগেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে এক প্রকার 'গৃহবন্দি' করার চেষ্টা চালায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।

বারুইপুর এলাকায় ১১ বছরের এক নাবালিকাকে নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ আছড়ে পড়ে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং শোকগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে একা বারুইপুর যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরের কথা জানাজানি হতেই রবিবার বিকেল থেকে কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জী স্ট্রিটে নজিরবিহীন তৎপরতা শুরু করে প্রশাসন। বসানো হয় একের পর এক ব্যারিকেড।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির চারপাশ মুড়ে ফেলা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF) দিয়ে। এই কড়া নিরাপত্তা ও ঘেরাটোপের পরেই তৃণমূলের অন্দরে 'হাউস অ্যারেস্ট' বা নজরবন্দির অভিযোগ ওঠে। দলের সাংসদ দোলা সেন ও অন্যান্য শীর্ষ নেতারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে একে 'গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ' এবং 'সুপার এমার্জেন্সি' বলে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন।

পরিস্থিতি জটিল হতে দেখে সামাজিক মাধ্যমে সরব হন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি ফেসবুক লাইভ বার্তার মাধ্যমে তিনি নিজের তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, "আমাকে নিয়ে এত ভয় কিসের? যদি নজরবন্দি করতেই হয়, তবে লিখিত নোটিফিকেশন দেওয়া হোক।" তাঁর দাবি অনুযায়ী, বাড়ি থেকে বেরনোর রাস্তা আটকাতে প্রায় এক হাজার পুলিশ, আইবি, সিআইডি এবং সিআরপিএফ জওয়ানকে তাঁর বাড়ির সামনে রুটমার্চ করানো হচ্ছিল। শুধু তাঁর বাসভবনই নয়, একই সময়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনেও সমপরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল বলে দলের তরফে দাবি করা হয়।

রবিবার রাতভর কালীঘাট এলাকায় এই টানটান উত্তেজনা বজায় থাকার পর, মধ্যরাতের দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। তৃণমূল কর্মী-সমর্থক ও নেতাদের লাগাতার প্রতিবাদের মুখে গভীর রাতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সরিয়ে নেওয়া হয়। সোমবার সকালের আপডেট অনুযায়ী, বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত। অতিরিক্ত ব্যারিকেড তুলে নেওয়া হয়েছে এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে সাধারণ নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, শুধুমাত্র সেটুকুই সেখানে বহাল রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বারুইপুরের স্পর্শকাতর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জেরে প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিয়েছিল নাকি এর পেছনে অন্য কোনো সমীকরণ রয়েছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি ও বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Priyobandhu Bangla