Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
কালীঘাটে ফের ভাঙন? কাকলি-শশী রুদ্ধদ্বার সাক্ষাৎ ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

কালীঘাটে ফের ভাঙন? কাকলি-শশী রুদ্ধদ্বার সাক্ষাৎ ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনীতির চাকা যখন ঘোরে, তখন চেনা সমীকরণগুলো কেমন যেন আলগা হতে শুরু করে। নির্বাচন-উত্তর পশ্চিমবঙ্গের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবার তীব্র জল্পনা দানা বেঁধেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একসময়ের অত্যন্ত বিশ্বস্ত 'মহিলা ব্রিগেড' নিয়ে। কালীঘাটে ঘাসফুল শিবিরের দীর্ঘদিনের সতীর্থ, প্রাক্তন মন্ত্রী শশী পাঁজা হঠাৎ দেখা করলেন তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই (NCPI)-তে যোগ দেওয়া বিদ্রোহী সাংসদ ডা.

কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে। আর এই রুদ্ধদ্বার সাক্ষাৎ ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে হাজারো প্রশ্নের চোরাস্রোত। তবে কি এবার মমতার সঙ্গ ছাড়ছেন শশীও?শনিবার এবং সোমবার-পরপর দু'দিন কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে অবস্থিত ডা. কাকলি ঘোষ দস্তিদারের 'ঘোষ দস্তিদার ইনস্টিটিউট অফ ফার্টিলিটি রিসার্চ'-এ যেতে দেখা যায় শশী পাঁজাকে। কাকলি ঘোষ দস্তিদার বর্তমানে বিদ্রোহী ২০ জন তৃণমূল সাংসদের অন্যতম মুখ, যাঁরা দল ছেড়ে এনসিপিআই-তে সামিল হয়েছেন। স্বভাবতই, এমন এক নেত্রীর চেম্বারে শশী পাঁজার এই ঝটিকা সফর এবং দীর্ঘক্ষণ বৈঠককে স্রেফ 'সৌজন্য' বলে মানতে নারাজ রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
জল্পনার পারদ আরও চড়েছিল যখন কাকলি-পুত্র বৈদ্যনাথ সোশ্যাল মিডিয়ায় শশীর দলত্যাগের ইঙ্গিত দিয়ে একটি পোস্ট করেন, যদিও পরে তা মুছে ফেলা হয়।

রাজনীতির উথালপাথাল আবহে এই জল্পনা অবশ্য সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন ডা. কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তাঁদের এই সম্পর্কের বুনিয়াদ রাজনীতি নয়, বরং দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকের চিকিৎসাসংক্রান্ত পেশাদারি।সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কাকলি বলেন, "ডক্টর শশী পাঁজা আমার প্রথম স্টুডেন্ট। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ থেকে পাস করার পর, ১৯৮৭-৮৮ সাল নাগাদ ও আমার কাছেই আল্ট্রাসাউন্ড শেখার কাজ শুরু করে। সেই থেকে আজও ও প্রতিদিন নিয়ম করে ঘোষ দস্তিদার ইনস্টিটিউটে আসে এবং রোগী দেখে। ফলে ও আমার এখানে নতুন এসেছে বা কথা হচ্ছে-এই খবরটাই গোড়াতে ভুল! আমাদের মধ্যে তো রোজই কথা হয়।" নিজের ছেলের করা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নিয়ে অবশ্য দূরত্ব বজায় রেখেছেন বারাসতের এই সাংসদ।

অন্যদিকে, তৃণমূলের অন্দরে এই বৈঠক নিয়ে যে শোরগোল শুরু হয়েছে, তা সামাল দিতে ময়দানে নেমেছেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পর থেকে শশী পাঁজা কিছুটা আড়ালে থাকলেও এবং দলের সাথে সেভাবে যোগাযোগ না রাখলেও, তাঁর দলবদলের সম্ভাবনাকে এখনই মানতে নারাজ কুণাল। কুণাল ঘোষ সাফ জানিয়েছেন, "সর্বশেষ আমি যেটুকু জানি, আমার সঙ্গে ওঁর যা কথা হয়েছিল, উনি তো তৃণমূলেরই। আমি নতুন করে ওঁর কোনো অবস্থান বদলের খবর পাইনি।" সেই সঙ্গে কুণাল সোশ্যাল মিডিয়ায় কর্মীদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়েছেন, যেন শশী পাঁজাকে নিয়ে তৈরি হওয়া কোনো বিভ্রান্তিকর প্রচারে কেউ কান না দেন, যতক্ষণ না সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা সামনে আসছে।

পেশাগত আর রাজনৈতিক জীবন কি এভাবেই মিলেমিশে যায়, নাকি এই সাড়ে তিন দশকের শিক্ষক-ছাত্রীর সম্পর্কের আড়ালে তৈরি হচ্ছে নতুন কোনো রাজনৈতিক পটভূমি, তা হয়তো সময়ই বলবে। আপাতত কালীঘাটের এই ঘটনাকে ঘিরে জমজমাট বাংলার রাজনৈতিক অলিন্দ।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Priyobandhu Bangla