Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
তৃণমূলের ঘর ভেঙে কালই নিলেন 'নতুন পদ', আজই সন্দীপনের বাড়ি ঘিরে 'চোর' স্লোগান বিজেপির!

তৃণমূলের ঘর ভেঙে কালই নিলেন 'নতুন পদ', আজই সন্দীপনের বাড়ি ঘিরে 'চোর' স্লোগান বিজেপির!

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এখন একটাই খেলা চলছে- কে কাকে আগে ল্যাং মারবে! চোর চোর খেলায় মেতে থাকা তৃণমূলের অন্দরের কঙ্কালটা এবার একেবারে হাটে হাঁড়ি ভেঙে বেরিয়ে পড়ল বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের। সই জালিয়াতির কেলেঙ্কারিতে বহিষ্কৃত হয়েছেন যে সন্দীপন সাহা, আজ সকালে তাঁর কলকাতার এন্টালির বাড়ির সামনে আছড়ে পড়ল চরম গণবিক্ষোভ।

বিজেপি নেত্রী প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়ালের নেতৃত্বে গেরুয়া শিবির এবং তিতিবিরক্ত স্থানীয় মানুষ যখন সন্দীপনের বাড়ির দরজা কাঁপিয়ে দিচ্ছেন, তখন ভেতরের অংকটা কিন্তু আরও জটিল। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী, গতকালই তো বিধানসভায় ঘটে গেছে এক নজিরবিহীন নাটক! দল ভেঙে বেরিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহারা মিলে এক নতুন 'বিকল্প গোষ্ঠী' গড়ে ফেলেছেন বলে খবর। খবর চাউর হয়েছে, ঋতব্রত বাবু নাকি হয়ে বসেছেন নতুন বিরোধী দলনেতা, আর উপ-বিরোধী দলনেতার মুকুট মাথায় পরেছেন এই সন্দীপন সাহা।

তৃণমূলের ক্ষমতার অহংকার কীভাবে তাসের ঘরের মতো ভাঙছে, তার প্রমাণ গতকালের ওই ঘটনা- এমনটাই কটাক্ষ করছে গেরুয়া শিবির। দল থেকে ঘাড় ধাক্কা খাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ৫৮ জন বিক্ষুব্ধ বিধায়কের সই পকেটে পুরে বিধানসভার স্পিকারের দরবারে পৌঁছে গিয়েছিলেন ঋতব্রত-সন্দীপনরা, সংবাদমাধ্যমের দাবি অন্তত সেটাই। তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরাই এখন বিধানসভার আসল চালিকাশক্তি, তাঁরাই মূল বিরোধী দল। কিন্তু ট্র্যাজেডিটা দেখুন- গতকাল যিনি বিধানসভায় গিয়ে নিজের গদি আর পদ পাকা করে এলেন বলে খবর, আজ সকালে তাঁর নিজের পাড়াতেই উঠল 'চোর চোর' স্লোগান! এ যেন ঠিক সেই প্রবাদ- 'দিল্লি কা লাড্ডু জো খায়া ও ভি পস্তায়া!'

আজ সকালে এন্টালিতে সন্দীপন সাহার বাড়ির সামনে যে দৃশ্য দেখা গেল, তা এককথায় নজিরবিহীন। বিজেপি কর্মী- সমর্থকেরা একটা জ্যান্ত খচ্চরের মুখে সন্দীপন সাহা এবং তাঁর বাবা, প্রাক্তন বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহার ছবি ঝুলিয়ে অভিনব কায়দায় প্রতিবাদ জানান। স্থানীয় মানুষের ক্ষোভের পারদ ছিল সপ্তমে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ- কাটমানি, বেআইনি ফ্ল্যাট নির্মাণ, তোলাবাজি আর জমি দখলকে নাকি শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন এই বাবা-ছেলে জুটি। তৃণমূলের টিকিট নিয়ে বছরের পর বছর যে সাম্রাজ্য তাঁরা গড়েছিলেন, আজ জনতা সেই সমস্ত অন্যায়ের হিসাব চাইতে সোজা বাড়ির দরজায় পৌঁছে গেছে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।

বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, এই বিক্ষোভ আসলে তৃণমূলের সাজানো চিত্রনাট্যও হতে পারে! পিসি-ভাইপোর পায়ের তলার মাটি এখন আলগা। শুভেন্দু অধিকারী সই জালিয়াতির গোমর ফাঁস করতেই ভয় পেয়ে তড়িঘড়ি এই দুজনকে দল থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছিল বলে দাবি বিজেপির। কিন্তু চোরে চোরে মাসতুতো ভাইদের সেই লড়াইয়ে এবার যখন ঋতব্রত-সন্দীপনরা একটা আস্ত নতুন দল বা গোষ্ঠী তৈরি করে পালটা কামড় দিলেন, তখনই নাকি এই বিক্ষোভের নাটক সাজানো হয়েছে- এমনটাই পালটা দাবি করছে একাংশ। যদিও সন্দীপন শিবিরের অনুগামীদের দাবি, এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিজেপি নেত্রী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, "তৃণমূলের চোরেরা নিজেরা কামড়াকামড়ি করুক বা নতুন পদ নিক, তাতে সাধারণ মানুষের কিছু যায় আসে না। সন্দীপন সাহা এবং তাঁর পরিবার যে বিপুল পরিমাণ দুর্নীতির টাকা সাধারণ মানুষের থেকে লুঠ করেছে বলে অভিযোগ, তার হিসাব ইডি-সিবিআই-কে দিতেই হবে। রাস্তা থেকে আমরা নড়ব না।"

রাজনীতির পরিহাসটা এখানেই। গতকাল যিনি স্পিকারের ঘরে গিয়ে নতুন বিরোধী দল বা গোষ্ঠীর 'উপ-নেতা' হিসেবে শপথের দম্ভ দেখাচ্ছিলেন বলে খবর, আজ তিনি নিজের ড্রয়িংরুমে বসে বাইরে সাধারণ মানুষের গর্জন শুনছেন। তৃণমূলের এই ভাঙন এবং দুর্নীতির কাদা ছোঁড়াছুঁড়িই প্রমাণ করে দিচ্ছে যে এদের বিদায় ঘণ্টা অনেক আগেই বেজে গেছে বলে দাবি করছে বিরোধী শিবির। এখন দেখার, এই বিকল্প তৃণমূলের 'উপ-নেতা'র তকমা সন্দীপন সাহাকে জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ত রোষ থেকে বাঁচাতে পারে কি না! নাকি পুলিশ দিয়ে এই গণরোষ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হবে? নজর থাকবে পোর্টালের পাতায়।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Priyobandhu Bangla