Dailyhunt
শিক্ষা ক্ষেত্রে কাটছে অনিশ্চয়তা: বকেয়া ডিএ মেটাতে তৎপর বিকাশ ভবন

শিক্ষা ক্ষেত্রে কাটছে অনিশ্চয়তা: বকেয়া ডিএ মেটাতে তৎপর বিকাশ ভবন

দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন ও আইনি জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে রাজ্যের আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করল রাজ্য সরকার। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে শিক্ষা দফতরের সদর দফতর বিকাশ ভবনে জোরকদমে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে।

এই পদক্ষেপের ফলে কয়েক লক্ষ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর বকেয়া পাওনা পাওয়ার পথ প্রশস্ত হলো বলে মনে করা হচ্ছে।

শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গেছে, স্কুলস্তরের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে কর্মরত শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের বিস্তারিত তথ্যও ইতিমধ্যেই তলব করা হয়েছে। বিশেষত ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত সময়কালের নির্দিষ্ট তথ্য চাওয়া হয়েছে। ওই সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা কোন পদে ছিলেন, তাঁদের 'ব্যান্ড পে' ও 'অ্যাকাডেমিক গ্রেড পে' কত ছিল-এই সমস্ত খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখে হিসাব নির্ভুল করার প্রক্রিয়া চলছে। জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ-এই তিন মাসের পৃথক হিসাব সম্পূর্ণ হলেই জারি করা হবে 'ম্যাচিং অর্ডার', যা বকেয়া ডিএ প্রদানের শেষ প্রশাসনিক ধাপ।

উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক ঘোষণায় জানিয়েছিলেন যে, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি শিক্ষক, পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও বকেয়া ডিএ-র আওতায় আসবেন। রোপা-২০০৯ অনুযায়ী এই পাওনা ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকেই দেওয়ার কথা ছিল। তবে মাঝপথে শুধুমাত্র সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় শিক্ষামহলে নতুন করে সংশয় তৈরি হয়েছিল। সেই সংশয় কাটাতেই এবার নবান্নে অর্থ দফতরের সঙ্গে শিক্ষা দফতরের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই কর্মতৎপরতা শুরু হয়েছে।

প্রশাসনিক আধিকারিকদের দাবি, এবার আর কোনও অনিশ্চয়তা নেই। তথ্য সংগ্রহের কাজ সম্পূর্ণ হলেই পর্যায়ক্রমে সমস্ত স্তরের শিক্ষাকর্মীরা তাঁদের প্রাপ্য বকেয়া হাতে পাবেন। দীর্ঘদিনের এই দাবি পূরণের পথে রাজ্য সরকারের এই সক্রিয়তা শিক্ষামহলে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। এর ফলে একদিকে যেমন শিক্ষক ও কর্মীদের আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর হবে, অন্যদিকে তেমনই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পালনে রাজ্য সরকারের দায়বদ্ধতাও পুনপ্রতিষ্ঠিত হবে।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Purbottar