পাহাড়বাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করে মাত্র ২০ দিনের মধ্যে পুনর্নির্মিত দার্জিলিংয়ের দুধিয়া বেইলি ব্রিজের ভার্চুয়াল উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি জানান, পাহাড়ের সামগ্রিক উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং সর্বস্তরের মানুষের অন্তর্ভুক্তিমূলক অগ্রগতিই বর্তমান রাজ্য সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
রেকর্ড সময়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণে সহযোগিতার জন্য তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনী, পূর্ত দফতর (পিডব্লিউডি) এবং জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।
বালাসন নদীর ওপর নির্মিত দুধিয়া সেতুটি দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। তবে লাগাতার ভারী বর্ষণ ও নদীর প্রবল স্রোতে আগের সেতুটি ভেসে যাওয়ায় দুধিয়া এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, নিত্যযাত্রী এবং পর্যটকদের চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়।
গত বছরের অক্টোবর মাসের প্রাকৃতিক দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি এড়াতে এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমাতে রাজ্য সরকার আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের প্রধান সচিব উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদ, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের রূপরেখা তৈরি করেছেন।
এই অনুষ্ঠানে পাহাড়ে দুর্যোগ মোকাবিলা জোরদার করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
আগামী সেপ্টেম্বর থেকে আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জামসহ ৫০ সদস্যের একটি স্থায়ী সিভিল ডিফেন্স দল পাহাড়ে মোতায়েন করা হবে। এই বাহিনী পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং দমকল বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় রেখে জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণকার্যে অংশ নেবে।
উদ্ধারকাজকে আরও কার্যকর করতে উন্নত প্রযুক্তির দুর্যোগ মোকাবিলা সরঞ্জাম সংগ্রহের উদ্যোগও নিয়েছে রাজ্য সরকার।
এছাড়া আগামী মার্চ পর্যন্ত সৈনিক বোর্ডের মাধ্যমে প্রাক্তন সেনাকর্মীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সিভিল ডিফেন্সের অধীনে বিশেষ 'অগ্নিবীর' ইউনিট গঠন করা হবে। এই প্রকল্পের আওতায় কলকাতায় ১০০ সদস্যের একটি ইউনিট, সাগরদ্বীপে ৫০ সদস্যের একটি ইউনিট এবং দার্জিলিং, কালিম্পং ও কার্শিয়াঙে আরও একটি বড় ইউনিট স্থায়ীভাবে মোতায়েন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগের প্রশংসা করে দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা বলেন, মিরিক, দুধিয়া এবং তরাই-ডুয়ার্স অঞ্চলের মানুষের পক্ষ থেকে তিনি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন। তাঁর দাবি, দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র দুই মাসের মধ্যেই পাহাড়ে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিকাঠামো উন্নয়নে মুখ্যমন্ত্রী যে পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
সাংসদ আরও জানান, বর্তমান সরকারের আমলে পাহাড়ে একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। কালিম্পঙে নতুন মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দার্জিলিংয়ে একটি আধুনিক ট্রমা সেন্টার এবং ৫০০ শয্যার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার জন্য জমি চিহ্নিত করার কাজ চলছে। কার্শিয়াং মহকুমা হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার অনুমোদনও মিলেছে।
চা শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষার জন্য ৩১৩ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল অনুমোদন করেছে রাজ্য সরকার। একইসঙ্গে চা ও সিঙ্কোনা বাগান এলাকায় 'প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা'-সহ কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। বর্তমানে ১ লক্ষ ২২ হাজারেরও বেশি মানুষ 'অন্নপূর্ণা যোজনা'র সুবিধা পাচ্ছেন।
দার্জিলিং শহরের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার সমাধানে নতুন একটি সার্কুলার রোড নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিকল্প হাইওয়ের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে এবং রোহিনী রোডের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ করছে পিডব্লিউডি।

