উত্তরপ্রদেশের আগরায় চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনায় স্বামীকে হত্যার পর বাড়ির বাথরুমের মেঝের নীচে দেহ পুঁতে রাখার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন স্ত্রী রুবি। প্রায় দেড় মাস ধরে নিখোঁজ ছিলেন সুরেন্দ্র শর্মা। দীর্ঘ তদন্তের পর বাড়ির বাথরুমের কংক্রিটের মেঝে ভেঙে তাঁর দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।
রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রায় ৪৫ দিন আগে নিখোঁজ হন সুরেন্দ্র। অভিযোগ, তদন্ত চলাকালীন রুবি নিজেও স্বামীকে খোঁজার নাটক চালিয়ে যান। প্রতিবেশীদের সামনে কান্নাকাটি করে তিনি নিজেকে উদ্বিগ্ন স্ত্রী হিসেবেই তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তবে তাঁর বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি লক্ষ্য করেন সুরেন্দ্রর পরিবারের সদস্যরা। বিশেষ করে সুরেন্দ্রর ভাই রুবির আচরণ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে পুলিশের কাছে তথ্য দেন।
এরপর তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির পর পুলিশ সুরেন্দ্রর বাড়িতে তল্লাশি চালায়। বাথরুমে অস্বাভাবিক নির্মাণকাজ দেখে সন্দেহ হয় তদন্তকারীদের। শ্রমিকদের সাহায্যে মেঝে ভাঙতেই উদ্ধার হয় সুরেন্দ্রর দেহ।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এত বড় ঘটনা একার পক্ষে ঘটানো কঠিন। খুনের পর দেহ গোপন করতে রুবিকে অন্য কেউ সাহায্য করেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে উত্তরপ্রদেশের মিরাটে বহুল আলোচিত 'ব্লু ড্রাম' হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে শোরগোল ফেলেছিল। আগরার এই ঘটনাও সেই ঘটনার স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। বর্তমানে রুবিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে খুনের মোটিভ ও ঘটনার নেপথ্যের সমস্ত তথ্য জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

