অগস্ট শেষ। এবার আর কোনও সতর্কবার্তা নয়, সরাসরি জরিমানা। সেপ্টেম্বরের প্রথম দিন থেকেই রাজ্যের শহরাঞ্চলে পরিচ্ছন্নতা নিয়ে আরও কড়া হচ্ছে প্রশাসন। রাস্তায় যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা, প্রকাশ্যে থুতু ফেলা কিংবা মল-মূত্র ত্যাগের মতো ঘটনায় এবার থেকে স্পট ফাইন করা হবে।
বাংলাকে পরিচ্ছন্ন ও আবর্জনামুক্ত রাখার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের।
পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল আগেই জানিয়েছিলেন, জুলাই ও অগস্ট জুড়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পর সেপ্টেম্বর থেকে নিয়ম ভাঙলে আর ছাড় দেওয়া হবে না। সেই মতোই ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যের সমস্ত পুরনিগম, পুরসভা এবং নোটিফায়েড এরিয়ায় চালু হল নতুন বিধিনিষেধ।
শুধু ঘোষণা করেই থেমে থাকেননি মন্ত্রী। পরিচ্ছন্নতার বার্তা দিতে নিজেই রাস্তায় নেমেছেন তিনি। কখনও হাতে তুলে নিয়েছেন ঝাঁটা, কখনও বিলি করেছেন ডাস্টবিন, আবার কখনও বিভিন্ন দোকান-বাজারে গিয়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে সচেতন করেছেন।
কোন অপরাধে কত টাকা জরিমানা?
নতুন নিয়ম অনুযায়ী-
প্রকাশ্যে থুতু ফেললে: ১০০ টাকা
প্রকাশ্যে মলত্যাগ বা প্রস্রাব করলে: ২০০ টাকা
রাস্তায় বা প্রকাশ্য স্থানে আবর্জনা ফেললে: ২০০ টাকা
নিষিদ্ধ প্লাস্টিকের ক্যারি ব্যাগ ব্যবহার করলে: ২০০ টাকা
অর্থাৎ, শহরের রাস্তায় বেরিয়ে নিয়ম ভাঙলেই এবার পকেট থেকে টাকা বেরোতে পারে।
নগদে নয়, জরিমানা দিতে হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে
প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, স্পট ফাইনের টাকা কোনওভাবেই নগদে নেওয়া যাবে না। অনুমোদিত আধিকারিকরা শুধুমাত্র ডিজিটাল বা অনলাইন পদ্ধতিতে জরিমানা আদায় করবেন।
রাজ্যের তরফে জেলাশাসকদের কাছেও পাঠানো হয়েছে নির্দেশিকা। স্থানীয় স্তরে ব্যাপক প্রচার চালানোর পাশাপাশি নিয়ম কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সামনে রাখা হয়েছে বার্তাও-'Do not litter. Do not spit in public places, streets, hospitals, etc. Keep Bengal clean.'
কোথায় থাকবে নজরদারি?
শুধু রাস্তা বা বাজার নয়, নর্দমা, জলাশয়, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থান এবং সরকারি ভবনেও নজরদারি চালানো হবে। অর্থাৎ, প্রকাশ্য জায়গায় অপরিচ্ছন্নতা ছড়ালে নিয়মের আওতায় পড়তে হবে।
সাধারণ মানুষও এই নিয়ম ভাঙার অভিযোগ প্রশাসনকে জানাতে পারবেন অ্যাপের মাধ্যমে। ফলে সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই পরিচ্ছন্নতা নিয়ে 'সচেতনতার পর্ব' পেরিয়ে এবার শুরু হল 'জরিমানার পর্ব'।

