পশ্চিম বর্ধমানের খনি অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ বালি ও কয়লা পাচার চক্রের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান চালিয়ে এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে দুর্গাপুর-ফরিদপুর থানার পুলিশ গোগলা এলাকার তৃণমূল সভাপতি গৌতম ঘোষকে আটক করে। তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ খনন, কয়লা পাচার, সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে বেআইনি কার্যকলাপ চালানোর অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাচারচক্রের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীদের অনুমান, এই চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন।
অজয় নদ ও খনি অঞ্চলকে কেন্দ্র করে অভিযোগ
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অজয় নদ থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন চলছিল। পাশাপাশি খনি এলাকা থেকে বেআইনিভাবে কয়লা সরিয়ে বিভিন্ন জায়গায় পাচারের অভিযোগও উঠে আসে। এই সমস্ত কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে গৌতম ঘোষের প্রভাব ছিল বলে দাবি এলাকার একাংশের।
অভিযোগ আরও, তাঁর রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এতদিন কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাননি। ফলে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল।
রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে
গ্রেপ্তারের পর ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিরোধীদের অভিযোগ, শুধু অবৈধ কারবার নয়, অতীতের একাধিক রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও বিরোধীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার ঘটনাতেও তাঁর নাম উঠে এসেছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ নিয়ে শাসকদলের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
তদন্তে নতুন দিশা
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই গ্রেপ্তার খনি অঞ্চলের অবৈধ অর্থনৈতিক চক্রে বড় ধাক্কা দিতে পারে। তদন্ত যত এগোবে, ততই আরও নতুন তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন নজর আদালত ও পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

