অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের জন্য বড় ঘোষণা রাজ্য সরকারের। এতদিন মাসে আড়াই হাজার টাকা করে পেনশন পেতেন তাঁরা। এবার সেই পরিমাণ দ্বিগুণ করে ৫ হাজার টাকা করা হল। বাজেটে এই বৃদ্ধির কথা আগেই ঘোষণা করেছিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। মঙ্গলবার নবান্ন থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে নতুন পেনশন প্রকল্প চালুর কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এদিন নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনার আওতাভুক্ত সাংবাদিকদের হাতে স্বাস্থ্য বিমার কার্ড তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে আয়ুষ্মান ভারত এবং মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনার মাধ্যমে রাজ্যের প্রায় ১৯০০টি হাসপাতালে চিকিৎসার সুবিধা পাওয়া যাবে। দেশের প্রায় ৩৮ হাজার হাসপাতালেও এই সুবিধা মিলবে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, এটি সাংবাদিকদের জন্য অতিরিক্ত একটি সুযোগ।
তিনি আরও জানান, যাঁরা ইতিমধ্যেই আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন, তাঁদের আলাদা করে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনার কার্ড নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে যাঁরা আয়ুষ্মান ভারতে যুক্ত হতে পারেননি, তাঁদের বিশেষ ভাবে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনার আওতায় আনা হয়েছে। সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও এই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁদের অধিকাংশই কার্ড পেয়ে গিয়েছেন। বাকি আবেদনকারীরাও পর্যায়ক্রমে কার্ড পাবেন। এ ক্ষেত্রে সরকারি আধিকারিকরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবেন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
এর পরেই অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের পেনশন বৃদ্ধি নিয়ে ঘোষণা করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, আগের সরকারের সময়ে অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের মাসে আড়াই হাজার টাকা করে পেনশন দেওয়া হত। প্রায় ১৫০ থেকে ১৫৪ জন এই সুবিধা পেতেন। বাজেটে সেই পেনশন বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তই কার্যকর করা হল।
নতুন প্রকল্পটি ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হচ্ছে। অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের মাসিক পেনশন আড়াই হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। শুধু অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডধারী সাংবাদিকরাই নন, সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন স্তরে কর্মরত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরাও এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন।
বিশেষ করে নিউজ ডেস্কে কর্মরত এমন বহু সাংবাদিক রয়েছেন, যাঁদের সাধারণত অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড থাকে না। বেসরকারি সংবাদমাধ্যমে কর্মরত হওয়ায় অবসরের পর অনেকেরই পেনশনের মতো সামাজিক সুরক্ষা থাকে না। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই এই প্রকল্পের পরিধি বাড়ানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, নতুন প্রকল্পে সমস্ত শ্রেণির গণমাধ্যমকর্মী নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে আবেদন করতে পারবেন। যোগ্যতার ভিত্তিতেই সুবিধাভোগীদের বাছাই করা হবে এবং গোটা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে। সরকারের লক্ষ্য, বর্তমানে মাত্র দেড়শোর মতো সুবিধাভোগীর পরিবর্তে সর্বাধিক সংখ্যক যোগ্য সাংবাদিককে এই সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসা।

