দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর ফের তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হলেন বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না করেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, "আমাদের কখনও নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করতে হয়নি। যাঁদের মানুষ রক্ষা করবে, তাঁদেরই নিরাপত্তা চাইতে হচ্ছে।" তাঁর অভিযোগ, বর্তমানে যে সংকটের মুখে তৃণমূল দাঁড়িয়ে, তার নেপথ্যে রয়েছেন অভিষেকই।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, "আমি গদ্দার হতে পারি, কিন্তু চোর নই। আমাকে কেউ চোর বলছে না।"
সম্প্রতি সোনারপুরে বিক্ষোভের মুখে পড়ার পর সাংসদ হিসেবে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তার আবেদন করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার সকালে বিধানসভায় যাওয়ার আগে ঋতব্রত বলেন, "এত বড় জননেতা ২৬ দিন বাইরে বেরোতে পারেননি। আমি অতিরিক্ত নিরাপত্তা ছাড়াই বিধানসভা এলাকায় যাচ্ছি। আমি বিশ্বাসঘাতক হতে পারি, কিন্তু চোর নই।"
বহিষ্কৃত এই বিধায়কের দাবি, তৃণমূলকে কর্পোরেট ধাঁচে পরিচালনার চেষ্টা করার ফলেই দল তার জনভিত্তি হারিয়েছে। যদিও দলের বিভিন্ন দুর্নীতির ঘটনায় তিনি অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন, তবুও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা অটুট বলেই জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতা খুব কম দেখা যায়। তাঁর প্রতি আমার শ্রদ্ধা আগে যেমন ছিল, এখনও তেমনই আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।"
এদিকে মঙ্গলবার বিধানসভায় যাওয়ার কথা জানিয়েছেন ঋতব্রত। তিনি বিধানসভার সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন কি না, তা স্পষ্ট করেননি। অন্যান্য তৃণমূল বিধায়কদের সঙ্গে যোগাযোগ না হলেও, প্রাক্তন নির্বাচনী কৌশলবিদ তথা জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, বিদ্রোহী বিধায়কদের নিয়ে ঋতব্রত বিধানসভায় নিজেদেরই প্রকৃত তৃণমূল হিসেবে দাবি করতে পারেন। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, প্রায় ৫০ জন বিধায়কের সমর্থন তাঁর পক্ষে রয়েছে।

