বারুইপুর ধর্ষণ-খুন মামলায় পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের ময়নাতদন্ত ঘিরে কড়া নিয়ম মানছে স্বাস্থ্য দফতর। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (NHRC) নির্দেশিকা মেনে প্রভাসের ময়নাতদন্তের জন্য গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে অভিজ্ঞ ফরেন্সিক চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হবে গোটা প্রক্রিয়া।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, ময়নাতদন্তের আগে প্রভাস মণ্ডলের দেহের ডিজিটাল এক্স-রে করা হয়েছে। গুলির অবস্থান, গতিপথ এবং শরীরে আঘাতের ধরন স্পষ্টভাবে বোঝার জন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী পুরো ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া ভিডিওগ্রাফি করা হবে। পাশাপাশি তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে একাধিক স্টিল ছবিও তোলা হবে।
বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ডে রয়েছেন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর শাশ্বত বিশ্বাস, এনআরএস মেডিক্যাল কলেজের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর সায়ক শোভন দত্ত এবং ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের প্রফেসর অলোক মজুমদার। তিনটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজের ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের নিয়েই তৈরি হয়েছে এই বোর্ড।
জানা গিয়েছে, প্রথমে প্রভাসের দেহ কাঁটাপুকুর মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে তা কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শুরুর আগে সমস্ত প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়, যাতে তদন্তের কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ না যায়।
প্রসঙ্গত, বারুইপুরে ১১ বছরের এক নাবালিকার দেহ উদ্ধার হওয়ার পর ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ওঠে। তদন্তে পুলিশ প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেফতার করে। এরপর ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য তাঁকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হলে পুলিশের দাবি, সেখানে এক অফিসারের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন প্রভাস এবং গুলি চালান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের গুলিতে তিনি আহত হন। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
এই এনকাউন্টার নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সেই কারণেই মানবাধিকার কমিশনের নিয়ম মেনে বিশেষজ্ঞ বোর্ডের মাধ্যমে ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে। এখন নজর রয়েছে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকে, যা প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পরিস্থিতি স্পষ্ট করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

