বারুইপুর ধর্ষণ-খুন কাণ্ডে (Baruipur Rape Murder Case) অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনায় ফের সামনে এসেছে রাজ্যের একাধিক ভয়াবহ অপরাধের স্মৃতি। কুলতলি, কামদুনি, হাঁসখালি থেকে মাটিগাড়া-মেয়েদের উপর নৃশংস অত্যাচারের ঘটনায় দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি তুলছেন নির্যাতিতাদের পরিবার।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে অভিযুক্তের মৃত্যুর খবর পৌঁছতেই শিলিগুড়ির মাটিগাড়ার নিহত ছাত্রীর পরিবারের মধ্যেও নতুন করে জেগেছে দ্রুত বিচারের আশা। ২০২৩ সালের সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছিল। এবার তাঁর মা দাবি করেছেন, মেয়ের খুনিরও যেন দ্রুত কঠোর শাস্তি হয়।
সংবাদমাধ্যমের সামনে কান্নাভেজা গলায় ওই নির্যাতিতার মা বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি আস্থা প্রকাশ করে জানান, বারুইপুরের মতো সব নৃশংস অপরাধের ক্ষেত্রেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে দ্রুত বিচার করে দোষীর ফাঁসি কার্যকর করা হোক।
মেয়ের বিচারের দাবিতে এক আবেগঘন প্রতিজ্ঞাও করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, যতদিন না মেয়ের খুনির সাজা কার্যকর হচ্ছে, ততদিন তিনি চুলে চিরুনি দেবেন না। নিজের এই দাবি প্রশাসনের শীর্ষস্তরে পৌঁছে দিতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অগস্ট মাসে শিলিগুড়ির মাটিগাড়ার খাপরাইল এলাকায় ঘটে ভয়াবহ ঘটনাটি। অভিযোগ, স্কুল থেকে ফেরার পথে একাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণ ও খুন করা হয়। ঘটনায় পুলিশ মহম্মদ আব্বাস নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। পরে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করে।
তবে সাজা কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত পরিবারের অপেক্ষা শেষ হয়নি। বারুইপুরের ঘটনায় অভিযুক্তের মৃত্যুর পর ফের একবার দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন নির্যাতিতার পরিবার।

