বিমানে চড়ার সময় অনেকেই জানলার পাশে বসতে ভালোবাসেন। কিন্তু কখনও কি খেয়াল করেছেন, বিমানের জানলা বাস বা ট্রেনের মতো একেবারে চৌকো নয়? এর পিছনে রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক কারণ, যা সরাসরি যাত্রীদের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত।
উচ্চ আকাশে উড়তে গেলে বিমানের ভিতর ও বাইরের বায়ুচাপের মধ্যে বিশাল পার্থক্য তৈরি হয়।
সেই চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ে বিমানের কাঠামোর বিভিন্ন অংশে, বিশেষ করে জানলার চারপাশে। যদি জানলা পুরোপুরি চৌকো হতো, তবে চারটি কোণে অতিরিক্ত চাপ জমে 'স্ট্রেস পয়েন্ট' তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকত। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে সেই জায়গায় সূক্ষ্ম ফাটল দেখা দিতে পারত, যা বড় দুর্ঘটনার কারণও হতে পারে।
এই ঝুঁকি এড়াতেই আধুনিক বিমানে ব্যবহার করা হয় গোলাকার বা বাঁকানো কোণযুক্ত জানলা। এই নকশার ফলে চাপ সমানভাবে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং কোনও নির্দিষ্ট জায়গায় অতিরিক্ত চাপ জমতে পারে না। ফলে বিমানের কাঠামো আরও মজবুত থাকে এবং দীর্ঘ সময় নিরাপদে ব্যবহার করা সম্ভব হয়।
শুধু নিরাপত্তাই নয়, এই ধরনের জানলা বিমানের স্থায়িত্বও বাড়ায়। বারবার উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় যে চাপের পরিবর্তন ঘটে, গোলাকার নকশা তা সহজেই সহ্য করতে পারে।
অর্থাৎ, বিমানের জানলার গোল বা কার্ভ ডিজাইন শুধুমাত্র দেখতে সুন্দর করার জন্য নয়। এর মূল উদ্দেশ্য হল মাঝ আকাশে বিমানের কাঠামোকে আরও নিরাপদ রাখা এবং যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। তাই পরের বার বিমানের জানলার দিকে তাকালে মনে রাখবেন-এই ছোট্ট নকশার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে বিমান প্রযুক্তির এক গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা কৌশল।

