ভবানীপুরে মনোনয়ন ঘিরে অশান্তির ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নিল কলকাতা পুলিশ। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-র মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিন ঘটে যাওয়া উত্তেজনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার প্রশাসনিক স্তরে জবাবদিহির চাপ বাড়ল।
লালবাজার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন দায়িত্বে থাকা দুই শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক ডিসি (দক্ষিণ) সিদ্ধার্থ দত্ত ও ডিসি (রিজার্ভ ফোর্স) মানস রায়কে শো-কজ় করা হয়েছে।
কেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়নি এবং কীভাবে অনুমতি ছাড়া জমায়েত গড়ে উঠল, সেই বিষয়ে তাঁদের কাছ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।অন্যদিকে, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ইতিমধ্যেই ৩৫ থেকে ৪০ জনকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তাঁদের উদ্দেশে নোটিস পাঠানো শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় মোট তিনটি পৃথক মামলা রুজু হয়েছে, যার মধ্যে দু'টি স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে করেছে পুলিশ।
ঘটনার দিন হাজরা মোড় থেকে শুরু হওয়া রোড শোতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মিছিল যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বাড়ির সামনে পৌঁছয়, তখনই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, তৃণমূল সমর্থকদের বিক্ষোভ ও বিজেপি কর্মীদের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় শুরু হয় বচসা, যা পরে ধস্তাধস্তিতে গড়ায়। এই ঘটনার পর নির্বাচন কমিশনও সক্রিয় হয়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে রিপোর্ট তলব করেন। পাশাপাশি কলকাতার পুলিশ কমিশনারের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, বেআইনি জমায়েত, উস্কানিমূলক স্লোগান এবং সরকারি নির্দেশিকা লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্ত এগোচ্ছে। ভবানীপুরের এই ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিচ্ছে প্রশাসন।

