ভরদুপুরে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছল সিআইডির একটি দল। শনিবার দুপুর প্রায় দেড়টা নাগাদ ৫-৬ জন আধিকারিক ভবানীপুরের 'শান্তিনিকেতন' নামে পরিচিত আবাসনের সামনে হাজির হন। দীর্ঘক্ষণ দরজায় কড়া নাড়ার পর বাড়ির এক কর্মী বাইরে এসে জানান, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর পরিবারের কোনও সদস্যই সেখানে উপস্থিত নেই।
সেই সময় মৃত এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বেলেঘাটায় গিয়েছিলেন অভিষেক। পরে সেখান থেকে তিনি কালীঘাটের বাসভবনে ফেরেন। এদিকে, 'শান্তিনিকেতন'-এ উপস্থিত সিআইডি আধিকারিকরা জানান, তাঁরা একটি নোটিস দিতে এসেছেন। তবে পরিবারের কোনও সদস্য উপস্থিত না থাকায় কর্মীর হাতে সেই নোটিস তুলে দেওয়া হয়নি।
এরপর সিআইডির দল কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে পৌঁছয়। সেখানেও কর্মীদের হাতে নোটিস দিতে অস্বীকার করেন তদন্তকারীরা। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, নোটিস সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দেওয়া হবে। কিছুক্ষণ পর অভিষেক বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে নোটিস গ্রহণ করেন।
নোটিস গ্রহণের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, "তদন্তকারী সংস্থা নোটিস দিতে এসেছে, অথচ আমি গত সাত বছর কোথায় থাকি, সেটাই জানে না। আমি নোটিস নিয়েছি। প্রয়োজন হলে আইনি সহায়তা নেব এবং তদন্তে সহযোগিতাও করব।"
প্রসঙ্গত, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে জমা পড়া একটি রেজোলিউশন ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওই নথিতে তৃণমূলের ৭০ জন বিধায়কের স্বাক্ষর রয়েছে বলে দাবি করা হলেও, একাধিক বিধায়কের স্বাক্ষরে অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, তাঁদের পূর্ববর্তী স্বাক্ষরের সঙ্গে ওই নথির স্বাক্ষরের মিল নেই।
জানা গিয়েছে, রেজোলিউশন জমা পড়ার আগে এই প্রস্তাব সংক্রান্ত একটি চিঠি বিধানসভায় জমা দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সিআইডির বর্তমান পদক্ষেপ সেই চিঠির স্বাক্ষর সংক্রান্ত তদন্তের অংশ কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ঘটনার সূত্রপাত বিধানসভার সচিবালয়ের দায়ের করা অভিযোগ থেকে। হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ জমা পড়ার পর প্রথমে রাজ্য পুলিশ ও কলকাতা পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও, পরে মামলার তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়।

