নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানের স্মৃতি এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে তামিলনাড়ুর ২১ পর্যটককে। শুক্রবার চেন্নাই বিমানবন্দরে ফিরতেই তাঁদের চোখেমুখে স্পষ্ট হয়ে ওঠে আতঙ্কের ছাপ। কেউ এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না, কী ভাবে মৃত্যুর মুখ থেকে তাঁরা ফিরে এলেন। তাঁদের কথায়, ''বেঁচে ফেরাটা যেন মিরাকল।''
নেপাল-তিব্বত সীমান্তের জিরং বন্দরে তখন দাঁড়িয়ে পর্যটকদের একাধিক বাস। কনভয়ে নিজেদের বাসে অপেক্ষা করছিলেন পর্যটকেরা। আচমকাই পাহাড়ের দিক থেকে ভেসে আসে প্রবল গর্জন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই কাদা, পাথর আর জলের বিশাল স্রোত ধেয়ে আসে নীচের দিকে।
পর্যটক বিজয়ভুবনেশ্বরীর কথায়, ''বোমা বিস্ফোরণের মতো একটা শব্দ শুনেছিলাম। তারপরই দেখি বিশাল কাদা-পাথরের স্রোত বাসগুলির দিকে ছুটে আসছে।'' তাঁর দাবি, চোখের সামনেই কনভয়ের দু'টি বাসকে হড়পা বান গিলে নেয়। তখন বাসের ভিতরে থাকা সকলেই ধরে নিয়েছিলেন, আর হয়তো বাঁচবেন না।
কোনও রকমে বাস থেকে বেরিয়ে তাঁরা উঁচু জায়গার দিকে ছুটতে শুরু করেন। কাছেই থাকা সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর শিবিরে পৌঁছলে পুলিশকর্মীরা তাঁদের নিরাপদ জায়গায় তুলে নিয়ে যান। সেই সাহায্যই তাঁদের প্রাণ বাঁচিয়েছে বলে জানিয়েছেন পর্যটকেরা।
তামিলনাড়ুর শিক্ষামন্ত্রী এ রাজমোহনের দাবি, রাজ্য থেকে প্রায় ৪০০ জন পর্যটক নেপালে গিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৪০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও অন্তত ৮০ জনের কোনও সন্ধান মেলেনি বলে জানা যাচ্ছে।
নেপাল পুলিশের ২৯ অগস্টের হিসাব অনুযায়ী, ভয়াবহ বন্যায় দেশে মৃতের সংখ্যা ৬১৬। নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ৩,০০০। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত থাকায় উদ্ধারকাজ এখনও কঠিন। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা ২১ পর্যটকের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা যেন সেই বিপর্যয়েরই জীবন্ত সাক্ষ্য।

