এক বছর আগে প্রথমবার ইউরোপের সিংহাসনে বসেছিল প্যারিস সাঁ জারমাঁ (পিএসজি)। এবার ছিল নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের পালা। আর সেই পরীক্ষায় উতরে গিয়ে ইতিহাস গড়ল ফরাসি ক্লাবটি। বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে আর্সেনালকে পেনাল্টি শুটআউটে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ইউরোপের সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করল লুইস এনরিকের দল।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত সময় শেষে ম্যাচের স্কোর ছিল ১-১। ফলে শিরোপা নির্ধারণের জন্য ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানেই স্নায়ুর লড়াইয়ে বাজিমাত করে পিএসজি।
এই জয়ের ফলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ যুগে টানা দু'বার ট্রফি জেতা দ্বিতীয় ক্লাব হয়ে উঠল পিএসজি। এর আগে এই কীর্তি ছিল শুধুমাত্র রিয়াল মাদ্রিদের দখলে। অন্যদিকে ২০০৬ সালের পর আবার ফাইনালে উঠেও ইউরোপসেরা হওয়ার স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল আর্সেনালের।
শুরুতেই আঘাত আর্সেনালের
ম্যাচের মাত্র ষষ্ঠ মিনিটেই এগিয়ে যায় মিকেল আর্তেতার দল। আক্রমণ থেকে বল পেয়ে বাঁ-পায়ের জোরালো শটে গোল করে আর্সেনালকে এগিয়ে দেন কাই হাভার্ৎজ। পিএসজি গোলরক্ষক মাতভেই সাফোনভের কিছুই করার ছিল না।
গোল খাওয়ার পর বলের দখল বাড়ানোর চেষ্টা করে পিএসজি। ভিতিনিয়া ও জোয়াও নেভেস মাঝমাঠে খেলার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করলেও উইলিয়াম সালিবা ও গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসের নেতৃত্বে আর্সেনালের রক্ষণ ছিল দুর্ভেদ্য। উল্টে প্রথমার্ধের শেষ দিকে হাভার্ৎজ আরও একটি সহজ সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ব্যবধান দ্বিগুণ হতে পারত।
ডেম্বেলের পেনাল্টিতে ম্যাচে ফেরে পিএসজি
দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের ছবি। আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায় পিএসজি এবং ৬২ মিনিটে সমতা ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে যায়। বক্সের মধ্যে খভিচা কাভারৎস্কেলিয়াকে ফাউল করলে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি।
স্পটকিক থেকে কোনও ভুল করেননি উসমান ডেম্বেলে। ঠান্ডা মাথায় ডেভিড রায়াকে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। ম্যাচে ফিরে আসে সমতা।
এরপর দুই দলই বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে। ৭৭ মিনিটে কাভারৎস্কেলিয়ার শট পোস্টে লাগে। অন্যদিকে ভিতিনিয়ার একটি প্রচেষ্টা অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে আর গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়েও অমীমাংসিত লড়াই
অতিরিক্ত সময়েও বলের দখল বেশিরভাগ সময় নিজেদের কাছে রাখে পিএসজি। বেঞ্চ থেকে নেমে ব্র্যাডলি বারকোলা ও গনসালো রামোস আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করেন। আর্সেনালের হয়ে মাঠে নামেন মার্টিন জুবিমেন্ডি ও গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি।
বারকোলা একটি নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করেন। অন্যদিকে কর্নার থেকে চাপ সৃষ্টি করলেও গোলের মুখ খুলতে পারেনি আর্সেনাল। ফলে ১২০ মিনিট শেষেও ফলাফল অমীমাংসিত থেকে যায়।
টাইব্রেকারে হৃদয়ভাঙা আর্সেনালের
টাইব্রেকারের শুরুতে গনসালো রামোস ও ভিক্টর গিয়াকোরেস দু'জনেই সফল হন। দ্বিতীয় রাউন্ডে ডেজিরে ডুয়ের গোলের জবাব দিতে ব্যর্থ হন এবেরেচি এজে, যা আর্সেনালকে চাপে ফেলে দেয়।
তৃতীয় রাউন্ডে নুনো মেন্ডেসের শট সেভ করে আশা জাগান ডেভিড রায়া। ডেকলান রাইস গোল করে সমতা ফেরান। এরপর আশরফ হাকিমি ও গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি দু'জনেই নিজেদের শট সফলভাবে জালে জড়ান।
শেষ শটে লুকাস বেরালদো গোল করে পিএসজিকে এগিয়ে দেন। ফলে সব চাপ গিয়ে পড়ে গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসের উপর। কিন্তু ব্রাজিলীয় ডিফেন্ডারের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে পিএসজি শিবির।
ইউরোপের নতুন আধিপত্য
এই জয়ের মাধ্যমে শুধু আরেকটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ট্রফিই জিতল না প্যারিস সাঁ জারমাঁ। টানা দ্বিতীয়বার ইউরোপের মুকুট জিতে তারা প্রমাণ করল, গতবারের সাফল্য কোনও আকস্মিক ঘটনা ছিল না। লুইস এনরিকের দল নিজেদের আধিপত্য আরও একবার প্রতিষ্ঠা করে ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে নতুন বার্তা দিল গোটা বিশ্বকে।

