এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের ক্ষত এখনও শুকোয়নি। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজনদের খোঁজ চলছে, উদ্ধারকাজে ব্যস্ত প্রশাসন। তার মধ্যেই ফের নতুন বিপদের আশঙ্কা নেপালে। দেশের একাধিক জেলায় নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি তৈরির সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। কোথাও বাড়ছে নদীর জলস্তর, কোথাও আবার আচমকা হড়পা বান নেমে আসার আশঙ্কা।
মঙ্গলবার সকালে নেপাল প্রশাসনের তরফে পূর্ব, মধ্য এবং পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক জেলার বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে। বিশেষ করে নুয়াকোট ও রাসুয়া জেলায় হড়পা বানের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ফলে নদী, খাল এবং পাহাড়ি ঢালের কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষদের বাড়তি সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
শুধু এই দুই জেলা নয়, তাপলেজুং, শঙ্খুয়াসভা, সোলুখুম্বু, খোটাং, ওখালঢুঙ্গা এবং রামেচাপেও জলস্তর বৃদ্ধি ও আকস্মিক বন্যার মাঝারি ঝুঁকি রয়েছে। পশ্চিম নেপালের গোর্খা, লামজুং, ডলপা, রুকুম পূর্ব এবং রুকুম পশ্চিমেও পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।
এক বাড়ি থেকেই উদ্ধার ২৩টি দেহ
এর মধ্যেই সামনে আসছে বিপর্যয়ের ভয়াবহ ছবি। নুয়াকোটের বন্যাকবলিত একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে ২৩ জনের দেহ। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, মৃতরা একই পরিবারের সদস্য। একটি বাড়ির ভিতর থেকেই এতগুলি দেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়।
ইতিমধ্যেই ভয়াবহ হড়পা বানে নেপালে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৬২-তে পৌঁছেছে বলে খবর। এখনও প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ নিখোঁজ। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও চাপা পড়ে থাকতে পারেন বহু মানুষ। একদিকে নিখোঁজদের সন্ধানে চলছে উদ্ধার অভিযান, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরানোর চেষ্টা করছে প্রশাসন। সেই পরিস্থিতিতেই নতুন করে বন্যা ও হড়পা বানের সতর্কবার্তা উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এক বিপর্যয়ের রেশ কাটার আগেই আরেক বিপদের আশঙ্কা-নেপালে তাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ফের কি পাহাড়ি ঢল আর হড়পা বান আরও বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে?

