বহু বছর পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে 'একলা চলার' সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রথমবার রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে নিজের ইস্তাহার প্রকাশ করল কংগ্রেস। ভোটের মাত্র কয়েক মাস আগে কলকাতার এক বিলাসবহুল হোটেলে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের উপস্থিতিতে সর্বভারতীয় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে রাজ্যের জন্য দলের রোডম্যাপ তুলে ধরেন।
তাঁর দাবি-"বাংলার প্রকৃত বিকল্প কেবল কংগ্রেসই।"
উন্নয়ন বনাম জনমোহিনী রাজনীতি: কী বলল কংগ্রেস?
খাড়্গে স্পষ্ট ভাষায় জানান, বর্তমান সরকারের 'টাকা বিলোনোর রাজনীতি'-র বদলে দীর্ঘমেয়াদী শিল্প, কর্মসংস্থান ও পুনর্গঠনের নীতিতে বিশ্বাস রাখে কংগ্রেস। তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনকে কাঠগড়ায় তুলে তাঁর মন্তব্য-
"আমরা এসেছি রিবিল্ড ও রিফর্ম করতে। শিল্প, চাকরি-এর কোনোটাই এই সরকার দিতে পারেনি।"
একইসঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধেও তোপ-"ওরা শুধু ভয় দেখানোর রাজনীতি আর মেরুকরণে ব্যস্ত।"
কংগ্রেসের ইস্তাহারে নজরকাড়া প্রতিশ্রুতি
'দুর্গা সম্মান' - লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পাল্টা প্রকল্প
রাজ্যের মহিলাদের মাসে ২,০০০ টাকা নগদ সহায়তা।
কৃষক সম্মান
কৃষকদের বছরে ১৫,০০০ টাকা সহায়তা।
কৃষিকাজে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ।
বিধান স্বাস্থ্য সুরক্ষা
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের নামে
১০ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প।
যুব সম্মান
এক বছরের মধ্যে সরকারি শূন্যপদ পূরণ।
ইন্টার্নশিপের সুযোগ।
শিক্ষার আলো
স্নাতক স্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা।
AI শিক্ষাকেন্দ্র ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট হাব তৈরির পরিকল্পনা।
তৃণমূলের বিরুদ্ধে একলা কেন? খাড়্গের স্পষ্ট জবাব
জাতীয় স্তরে 'ইন্ডিয়া' জোটে শরিক হয়েও বাংলায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে একলা লড়াইয়ের প্রশ্নে খাড়্গে বলেন-
"রাজ্যের সমীকরণ আলাদা। কেরলে আমরা বামেদের বিরুদ্ধে, বাংলায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়ি। কিন্তু দিল্লিতে বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ে আমরা সবাই এক।"
বঙ্গে ত্রিমুখী লড়াই ফের উন্মোচিত
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিগত বিশ বছর বাদে কংগ্রেসের এই একক লড়াই বাংলার ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে নতুন উত্তাপ যোগ করবে। তৃণমূল, বিজেপি, বাম-কংগ্রেস-সব মিলিয়ে লড়াই এবার আরও ত্রিমুখী কিংবা চতুর্মুখী রূপ নিতে পারে।
এখন নজর একটাই-
কংগ্রেসের এই 'বিকল্প মডেল' বাংলার ভোটাররা কতটা গ্রহণ করেন।

