আগামী ৬ জুন ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। সম্প্রতি শেষ হওয়া বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বিরোধী শিবিরের জন্য যথেষ্ট হতাশাজনক। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস পরাজয়ের মুখ দেখেছে, কেরলে বামফ্রন্টের দীর্ঘদিনের ঘাঁটি ভেঙে গিয়েছে এবং তামিলনাড়ুতেও ডিএমকে ক্ষমতায় ফিরতে পারেনি।
ফলে আসন্ন বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর মধ্যে দীর্ঘ টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে বলে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে। একইসঙ্গে খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও ৬ জুনের বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকে শুধু বিজেপি-বিরোধী রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং জোটের ভবিষ্যৎ ও শরিক দলগুলির অস্তিত্ব রক্ষার রূপরেখা নিয়েও আলোচনা হতে পারে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মমতার সম্ভাব্য উপস্থিতি বৈঠকের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, রাহুল গান্ধীর কাছে এটি জোটের ঐক্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
এদিকে বৈঠকের আগেই জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করেছে। নির্বাচনে কংগ্রেস ও ডিএমকে একসঙ্গে লড়লেও ফল প্রকাশের পর কংগ্রেসের টিভিকের প্রতি ঝোঁক ডিএমকের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে ডিএমকের ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। একইভাবে কেরলে ক্ষমতা হারানোর পর সিপিএম নেতৃত্বের ভূমিকাও নজরে থাকবে।
সব মিলিয়ে ৬ জুনের বৈঠক ইন্ডিয়া জোটের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। ওই বৈঠকের পর বিজেপি-বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলির আগামী দিনের অবস্থান অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

