ভোট পরবর্তী বাংলায় ফের চরম উত্তেজনা ছড়াল কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রং রুম চত্বরে। শনিবার ভোর প্রায় চারটে নাগাদ ব্যালট বোঝাই ৮টি বাক্স সেখানে পৌঁছনোর পর নতুন বিতর্কের সূত্রপাত। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে ওই ব্যালট বাক্সগুলি আনা হয় এবং পরে সেগুলি এমন একটি ঘরে রাখা হয়, যেখানে কোনও সিসিটিভি নজরদারি নেই।
তৃণমূল দাবি করেছে, গোটা ঘটনার সিসিটিভি মনিটরিং স্ক্রিনের ছবি এবং একটি ভিডিও তাদের হাতে রয়েছে। অভিযোগ জানানো হলেও প্রশাসনের তরফে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলেও দাবি শাসকদলের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকেই স্ট্রং রুম চত্বরে উত্তেজনা ছড়ায়।
এর আগেও একই কেন্দ্রে স্ট্রং রুম ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ এবং শ্যামপুকুরের প্রার্থী শশী পাঁজা অভিযোগ করেন, প্রার্থী ও এজেন্টদের অনুপস্থিতিতে স্ট্রং রুম খোলা হয়েছে এবং সেখানে বহিরাগতদের প্রবেশ করতে দেখা গিয়েছে। পোস্টাল ব্যালটে কারচুপির চেষ্টার অভিযোগও তোলে তৃণমূল।
শুক্রবার সকালে নিজে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে পৌঁছে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেন কুণাল ঘোষ। সম্ভাব্য অনিয়মের আশঙ্কা আগেই প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এরপরই নতুন করে ব্যালট বাক্স সরানোর অভিযোগ সামনে আসে।
বৃহস্পতিবার এই ইস্যুতে কেন্দ্রের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন কুণাল ঘোষ ও শশী পাঁজা। পরে সেখানে পৌঁছন বিজেপি প্রার্থী তাপস রায়। তাঁকে ঘিরে তৃণমূল কর্মীদের 'জয় বাংলা' এবং বিজেপি সমর্থকদের 'জয় শ্রী রাম' স্লোগানে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কেন্দ্রীয় বাহিনী হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদার করতে নতুন ECINET মডিউল চালু করা হয়েছে।

