খাদ্য সুরক্ষা বিধি মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে অভিযানে নেমেই চক্ষু চড়কগাছ আধিকারিকদের। বেকারির ভিতরে সর্বত্র নোংরা পরিবেশ, ভনভন করছে মাছি। অথচ সেই জায়গাতেই তৈরি হচ্ছিল বিস্কুট, টোস্ট ও পাউরুটি। কারিগরদের কারও হাতে গ্লাভস নেই, মাথায় ক্যাপ বা মুখে মাস্কও ছিল না। এমনই একাধিক অনিয়ম ধরা পড়ায় হুগলির ভদ্রেশ্বরের একটি বেকারি আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
খাদ্য সুরক্ষা বিধি মানা হচ্ছে কি না, তা দেখতে বুধবার ভদ্রেশ্বরে অভিযান চালায় হুগলি জেলা স্বাস্থ্য দফতরের ফুড সেফটি আধিকারিকরা। সঙ্গে ছিলেন ভদ্রেশ্বর পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার এবং পুলিশ আধিকারিকরা।
অভিযানের সময় ভদ্রেশ্বরের একটি বেকারিতে গিয়ে একাধিক অনিয়ম নজরে আসে। অভিযোগ, বেকারির ভিতরে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের মধ্যেই তৈরি হচ্ছিল বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী। কারিগরদের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধিও মানা হচ্ছিল না। তৈরি হওয়া বিস্কুটে ডিম ব্যবহার করা হলেও প্যাকেটে সেই তথ্য উল্লেখ করা হয়নি বলে অভিযোগ।
শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ঘাটতিই নয়, বেকারিতে থাকা ভাঁটির ক্ষেত্রেও নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ। দমকলের প্রয়োজনীয় লাইসেন্সও ছিল না বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি খাবার তৈরিতে ক্ষতিকর রঙ ব্যবহারের অভিযোগও সামনে এসেছে।
অভিযানের সময় বেকারি থেকে বিস্কুটের নমুনা সংগ্রহ করেছেন খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকরা। সেগুলি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। আধিকারিকদের নির্দেশ, সমস্ত খাদ্য সুরক্ষা বিধি মেনে এবং বেকারির পরিবেশ সম্পূর্ণ পরিষ্কার করার পরেই ফের ব্যবসা শুরু করা যাবে। আপাতত বেকারিটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বেকারির মালিক প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার আশ্বাস দিয়েছেন। একইসঙ্গে কয়েক জন কারিগরও স্বীকার করেছেন, খাদ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে সেখানে কিছু ঘাটতি ছিল।
মিষ্টির দোকানেও অভিযান
শুধু বেকারি নয়, ভদ্রেশ্বরের একটি নামী মিষ্টির দোকান ও তার কারখানাতেও অভিযান চালানো হয়। সেখানে অপরিচ্ছন্নতার কিছু বিষয় নজরে আসায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একটি কেক-পেস্ট্রির দোকানেও খাদ্য সুরক্ষা দফতর ও এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের তরফে অভিযান চালানো হয়।
ফুড সেফটি সপ্তাহের শুরুতেই এই অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার একাধিক ঘটনা সামনে আসায় খাদ্য তৈরির জায়গাগুলিতে পরিচ্ছন্নতা এবং সুরক্ষা বিধি মানার বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে।
প্রশাসনের বার্তা স্পষ্ট-খাদ্য তৈরির জায়গায় পরিচ্ছন্নতা, কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি এবং প্যাকেটে উপাদানের সঠিক তথ্য উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। নিয়ম না মানলে প্রয়োজন অনুযায়ী কড়া পদক্ষেপ করা হবে।

