রাজনৈতিক পালাবদলের পর বাংলার প্রথম দুর্গাপুজোকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। আর সেই পুজোর আবহকে মহালয়া থেকেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরতে এবার কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে নজিরবিহীন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করছে শুভেন্দু অধিকারী সরকার। নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেন্সে আয়োজন করা হতে পারে এই মেগা শো।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের তরফে প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাংলার দুর্গাপুজোর ইতিহাস, দেবীর আগমনী, ঢাক, ধুনুচি নাচ, ছৌ এবং বিভিন্ন জেলার লোকসংস্কৃতিকে এক বৃহৎ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক হাজার শিল্পী ও ঢাকিকে অনুষ্ঠানে যুক্ত করার ভাবনাও রয়েছে।
এই আয়োজনের ক্ষেত্রে অসমের ২০২৩ সালের মেগা বিহু অনুষ্ঠানের মডেলও আলোচনায় রয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে হাজার হাজার শিল্পীর সমবেত পরিবেশনা আন্তর্জাতিক নজর কেড়েছিল এবং একাধিক গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড তৈরি হয়েছিল। বাংলার অনুষ্ঠানকেও একই রকম বৃহৎ পরিসরে নিয়ে যাওয়ার ভাবনা রয়েছে বলে সূত্রের দাবি। তবে গিনেস রেকর্ডের আনুষ্ঠানিক চেষ্টা হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্যের পাশাপাশি অর্থনীতিও রয়েছে পরিকল্পনার কেন্দ্রে। দুর্গাপুজোকে ঘিরে প্রতিমাশিল্পী, মণ্ডপ নির্মাতা, আলোকশিল্পী, ঢাকি, পরিবহণ, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও পর্যটন-সহ বহু ক্ষেত্রের মানুষের জীবিকা জড়িত।
UNESCO-র স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কলকাতার দুর্গাপুজোকে আন্তর্জাতিক পর্যটনের বড় আকর্ষণ হিসেবে তুলে ধরাই এখন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। ইডেনের মেগা শো সফল হলে মহালয়া থেকেই শুরু হতে পারে সেই প্রচারের নতুন অধ্যায়।

