দেশের উন্নয়নের চালিকাশক্তি যে যুবসমাজ, সেই বার্তাই ফের জোর দিয়ে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার কর্নাটকের মহীশূরে স্বামী বিবেকানন্দ কালচারাল ইউথ সেন্টার 'বিবেক স্মারক'-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ভারতের তরুণ প্রজন্ম আজ বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, স্টার্টআপ, ডিজিটাল উদ্ভাবন থেকে শুরু করে মহাকাশ গবেষণা-প্রতিটি ক্ষেত্রে দেশের সাফল্যের নতুন ইতিহাস লিখছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী শ্রীরামকৃষ্ণ, মা সারদা এবং Swami Vivekananda-কে শ্রদ্ধা জানান। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, প্রায় ১৩০ বছর আগে স্বামী বিবেকানন্দ মহীশূরে এসেছিলেন। সেই সময় তাঁর অসাধারণ চিন্তাধারা উপলব্ধি করে তৎকালীন মহারাজা তাঁকে সহযোগিতা করেছিলেন। পরে আমেরিকা থেকেও স্বামীজি সেই সহায়তার কথা উল্লেখ করেছিলেন। মোদীর কথায়, মহীশূরের ঐতিহ্যের সঙ্গে রামকৃষ্ণ মিশন ও স্বামীজির স্মৃতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত, আর 'বিবেক স্মারক' সেই আদর্শকে আগামী প্রজন্মের কাছে আরও শক্তভাবে পৌঁছে দেবে।
স্বামী বিবেকানন্দের 'শিব জ্ঞানে জীব সেবা' দর্শনের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণকেই জীবনের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া মানুষের সেবার মধ্যেই প্রকৃত মানবধর্মের প্রকাশ ঘটে।
যুবসমাজের ভূয়সী প্রশংসা করে মোদী বলেন, বর্তমানে ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তুলেছে। মোবাইল ফোন উৎপাদনেও দেশ বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে পৌঁছেছে। ভারতীয় ডিজিটাল প্রযুক্তি ও সমাধান আজ বহু দেশের কাছে অনুসরণীয় হয়ে উঠেছে। তাঁর দাবি, এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে দেশের উদ্যমী ও উদ্ভাবনী তরুণ প্রজন্ম।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একসময় ভারতের যুবসমাজ স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছিল, আর আজ সেই যুবকরাই দেশের উন্নয়নকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিচ্ছে। স্বামী বিবেকানন্দ যে শিক্ষিত, আত্মবিশ্বাসী ও দেশপ্রেমিক যুবসমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন, বর্তমান ভারতের তরুণরা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের দিকেই এগিয়ে চলেছে।

