মন্দিরে পুজো দিতে গিয়ে ছবি তোলা, সেলফি কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য রিল বানানো-এবার থেকে আর নয়। ভক্তদের আধ্যাত্মিক পরিবেশ বজায় রাখতে তামিলনাড়ুর ৫২টি মন্দিরে স্মার্টফোন নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাজ্য সরকার। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, মন্দিরে ঢোকার আগেই নির্দিষ্ট কাউন্টারে স্মার্টফোন জমা রাখতে হবে।
ফোন জমা দেওয়ার জন্য দিতে হবে ৫ টাকা। বিনিময়ে ভক্তদের হাতে দেওয়া হবে টোকেন বা স্লিপ। পুজো সেরে বেরোনোর সময় সেই টোকেন দেখালেই কাউন্টার থেকে ফোন ফেরত পাওয়া যাবে।
তবে সব ধরনের মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা নয়। ক্যামেরা নেই এমন সাধারণ ফোন মন্দিরে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি রয়েছে। অর্থাৎ জরুরি প্রয়োজনে ফোন সঙ্গে রাখতে চাইলে ক্যামেরাবিহীন মোবাইল ব্যবহার করা যাবে।
কেন এমন সিদ্ধান্ত? মন্দির কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বহু ভক্ত মন্দিরের ভিতরে ছবি, ভিডিও, সেলফি এবং সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য রিল তৈরি করছেন। এতে মন্দিরের শান্ত ও ধর্মীয় পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে এবং অন্য ভক্তদেরও অসুবিধা হচ্ছে। তাই এবার নিয়ম কার্যকর করতে আরও কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে।
কাঞ্চিপুরমের বিখ্যাত দেবরাজস্বামী-আথি ভারাদার মন্দিরে ইতিমধ্যেই এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে। পার্কিং এলাকা থেকে শুরু করে মন্দিরের আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়ে নোটিসও লাগানো হয়েছে। মাইক বা লাউডস্পিকারের মাধ্যমেও ভক্তদের সতর্ক করতে বলা হয়েছে।
এইচআর অ্যান্ড সিই দফতর জানিয়েছে, মাদ্রাজ হাই কোর্টের মাদুরাই বেঞ্চের ২০২২ সালের ২ ডিসেম্বরের নির্দেশের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ। তিরুচেন্দুরের আরুলমিগু সুব্রহ্মণ্য স্বামী মন্দিরে মোবাইল ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা চেয়ে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার পর আদালত মন্দিরে মোবাইল নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দিয়েছিল।
এবার সেই নির্দেশেরই আরও কড়া প্রয়োগ। মন্দিরে দেবদেবীর ছবি, ধর্মীয় অনুষ্ঠান রেকর্ডিং কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ার 'রিল'-সবেতেই টান পড়ল লাগাম।

