ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই ইসলামাবাদ থেকে এল মোদী-নিমন্ত্রণ। ২০২৭ সালে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-এর শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করবে পাকিস্তান। সেই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য অন্যান্য রাষ্ট্রপ্রধানের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।
আর সেই আমন্ত্রণ ঘিরেই নতুন করে শুরু হয়েছে কূটনৈতিক জল্পনা-ইসলামাবাদে কি পা রাখবেন মোদী?
বিশকেকে SCO সম্মেলন শেষ হওয়ার পরই পরবর্তী সম্মেলনের আয়োজক হিসেবে পাকিস্তানের নাম সামনে এসেছে। ফলে আগামী বছর নয়াদিল্লির সিদ্ধান্ত কী হবে, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
তবে আমন্ত্রণ এলেই যে মোদীর পাকিস্তান সফর নিশ্চিত, এমনটা নয়। সূত্রের খবর, ২০২৭ সালের পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি বিচার করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নয়াদিল্লি।
সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে ভারত। ইসলামাবাদ সন্ত্রাসবাদ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ না করা পর্যন্ত দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সম্ভাবনাও কার্যত নাকচ করেছে নয়াদিল্লি। বিশকেকের SCO মঞ্চ থেকেও নাম না করে সন্ত্রাসবাদে রাষ্ট্রীয় মদতের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মোদী।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীও জলবণ্টনকে রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার না করার বার্তা দিয়েছেন। ফলে একই মঞ্চে দাঁড়িয়েও দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে সংঘাতের ছায়া।
এর আগে ২০২৪ সালে পাকিস্তানে SCO সম্মেলনে মোদী নিজে যাননি। তাঁর হয়ে যোগ দিয়েছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদীর শেষ পাকিস্তান সফর হয়েছিল ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে, লাহোরে আচমকা সফরের মাধ্যমে।
তাই ২০২৭-এর SCO সম্মেলন ঘিরে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই-বারো বছর পর কি ফের পাকিস্তানের মাটিতে পা রাখবেন নরেন্দ্র মোদী?

