বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের সাক্ষী থাকল ফুটবল বিশ্ব। মায়ামিতে ১২০ মিনিটের নাটকীয় ম্যাচে আফ্রিকার নবাগত কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নিল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। স্কোরলাইন আর্জেন্টিনার জয় ঘোষণা করলেও, লড়াকু ফুটবল উপহার দিয়ে কোটি সমর্থকের মন জিতে নিল কেপ ভার্দে।
ম্যাচের শুরু থেকেই নির্ভীক ফুটবল খেলতে থাকে কেপ ভার্দে। তবে ২৯ মিনিটে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের নিখুঁত লং পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের দুরন্ত শটে গোল করেন লিওনেল মেসি। সেই গোলের সুবাদে বিশ্বকাপে নিজের ২০তম গোলের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ৩০টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলার নজিরও গড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৫৯ মিনিটে দেরয় দুয়ার্তের গোলে সমতায় ফেরে কেপ ভার্দে। এরপর আর্জেন্টিনার একাধিক নিশ্চিত গোল অসাধারণ সেভ করে রুখে দেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। নির্ধারিত সময়ের যোগ করা সময়ে কর্নার থেকে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দিলেও নাটক তখনও বাকি ছিল।
অতিরিক্ত সময়ের ১০৪ মিনিটে সিডনি কাবরালের দুরন্ত বাঁকানো শটে আবারও সমতায় ফেরে কেপ ভার্দে। ম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকেই এগোচ্ছিল, তখন ১১১ মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর হেড কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার দিনেই বোর্হেসের গায়ে লেগে জালে জড়ায়। সেটিই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফয়সালা করে দেয়।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই স্বস্তির উচ্ছ্বাসে ভেসে যায় আর্জেন্টিনা শিবির। অন্যদিকে, বিশ্বকাপে অভিষেকেই অসাধারণ লড়াই উপহার দিয়ে সম্মান নিয়ে বিদায় নেয় কেপ ভার্দে। আর ৩৯ বছর বয়সেও গোল ও অ্যাসিস্টসমতুল্য গুরুত্বপূর্ণ কর্নারে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়ে লিওনেল মেসি আবারও প্রমাণ করলেন, বড় মঞ্চে তাঁর জাদু এখনও অমলিন। শেষ আটে উঠলেও এই ম্যাচ আর্জেন্টিনাকে মনে করিয়ে দিল, বিশ্বকাপে কোনও প্রতিপক্ষকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

