নেপালের ভয়াবহ হড়পা বান ও বন্যার আতঙ্কের মধ্যেই আটকে থাকা পর্যটকদের উদ্ধারে তৎপর রাজ্য সরকার। শুক্রবার ভবানীভবন থেকে ভার্চুয়ালি নিখোঁজ পর্যটকদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই তিনি জানান, নিখোঁজদের সন্ধান এবং আটকে থাকা পর্যটকদের দেশে ফেরাতে কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
প্রয়োজনে নেপালে প্রতিনিধি দলও পাঠাবে রাজ্য।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, রাজ্যের তালিকায় এখনও পর্যন্ত মোট ৩৯ জন পর্যটক নিখোঁজ। তাঁদের মধ্যে বসিরহাটের একটি পরিবারের দুই সদস্যকে দ্রুত ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাকিদের সন্ধান পেতে নেপাল প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "প্রায় ১৭ জনের সঙ্গে কথা হয়েছে। সবার কথা শুনেছি। মোট নিখোঁজ ৩৯ জন। বসিরহাটের পোদ্দার পরিবারের দু'জনকে দ্রুত ফিরিয়ে আনা হবে। বাকিদের এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি।"
তিনি আরও জানান, 'চলো যাই' ট্যুরের ৩২ জনের নাম নেপালের নিখোঁজ তালিকায় রয়েছে। মুখ্যসচিবকে বিদেশমন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে নেপালে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
এদিকে তিব্বত যাওয়ার পরিকল্পনা থাকা ভারতীয়দের সুবিধার জন্য দিল্লির রেসিডেন্ট কমিশনকে দ্রুত ভিসা সংক্রান্ত ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার তিব্বতের দিক থেকে নেমে আসা প্রবল জলস্রোতে ভোটেকোশি নদীর জলস্তর আচমকা বেড়ে যায়। উত্তর নেপালের রসুয়া জেলায় ভয়াবহ হড়পা বানে ভেসে যায় বাড়িঘর, সেতু ও অসংখ্য যানবাহন। ক্ষতিগ্রস্ত হয় হাইড্রোবিদ্যুৎ প্রকল্পও।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এখনও ৩৮৪ জন পর্যটকের খোঁজ মেলেনি। তাঁদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক। ফলে উদ্ধারকাজের পাশাপাশি নিখোঁজ পর্যটকদের দ্রুত খুঁজে বের করাই এখন প্রশাসনের বড় চ্যালেঞ্জ।

