ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকরের ভবিষ্যৎ নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, খুব শীঘ্রই তাঁকে এই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে উঠে আসছে প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার ভিভিএস লক্ষ্মণের নাম। রোহিত শর্মার ভবিষ্যৎ নিয়ে আগরকরের অবস্থানই এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আগরকরের চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে তাঁকে অতিরিক্ত তিন মাস দায়িত্বে রাখা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা ছিল, ২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপ পর্যন্ত তিনিই প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব সামলাবেন। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সেই সম্ভাবনা অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
খবরে প্রকাশ, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের একদিনের সিরিজকেই রোহিত শর্মার শেষ সিরিজ হিসেবে ভাবা হয়েছিল। আগরকরের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটি নাকি এ বিষয়ে প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের সঙ্গেও আলোচনা করেছিল এবং পরবর্তী সিরিজগুলিতে রোহিতকে না রাখার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে রোহিতের দুরন্ত শতরান সেই সমীকরণ বদলে দেয়। তাঁর পারফরম্যান্সের পর নির্বাচক কমিটি এবং টিম ম্যানেজমেন্ট নতুন করে ভাবতে বাধ্য হয়।
এরপর বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রোহিত এখনও ভারতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং তিনি যতদিন চাইবেন, ততদিন দেশের হয়ে খেলতে পারবেন। একই সঙ্গে তিনি পরিষ্কার করে দেন, লর্ডসে খেলা ম্যাচটি রোহিতের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল না।
এদিকে, বিসিসিআই যদি নতুন প্রধান নির্বাচক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে ভিভিএস লক্ষ্মণই সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার বলে মনে করা হচ্ছে। বোর্ডের বার্ষিক সাধারণ সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলেও খবর।
যদিও এই মুহূর্তে ভারতীয় দলের প্রধান লক্ষ্য শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে টিকে থাকতে হলে এই সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে রোহিত শর্মাকে ঘিরে অজিত আগরকরের মন্তব্য যে বোর্ডের শীর্ষকর্তাদের সন্তুষ্ট করতে পারেনি, তা সাম্প্রতিক ঘটনাবলিতেই স্পষ্ট। একই সঙ্গে কোচ গৌতম গম্ভীরের ভূমিকাও এখন বিসিসিআইয়ের কড়া নজরে রয়েছে বলে ক্রিকেট মহলে আলোচনা চলছে।

