ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজ্য রাজনীতি নতুন করে উত্তপ্ত। শনিবার রাতেই Election Commission of India বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়, আগামী ২১ মে ফলতায় ফের ভোটগ্রহণ হবে এবং ২৪ মে হবে গণনা। এই ঘোষণার পরই রাজনৈতিক চাপানউতোর চরমে পৌঁছায়। বিতর্কের সূত্রপাত বিজেপি নেতা Amit Malviya-র একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে।
তিনি ফলতায় পুনর্নির্বাচনের খবর শেয়ার করে কটাক্ষ করেন, লিখেছিলেন- "ডায়মন্ড হারবার মডেল ভেঙে পড়েছে।"
এর জবাবে তীব্র পাল্টা বার্তা দেন Abhishek Banerjee। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন,
"আমার ডায়মন্ড হারবার মডেল ভাঙতে দশ জন্ম লাগলেও যথেষ্ট নয়। বাংলাবিরোধী গুজরাতি লবি এবং তাদের সহযোগীরা মিলেও কোনও ক্ষতি করতে পারবে না।"
এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে অভিষেক বলেন,
"আমি গোটা ভারত সরকারকে চ্যালেঞ্জ করছি- ফলতায় আসুন। আপনাদের সবচেয়ে শক্তিশালী নেতা বা দিল্লির কোনও গডফাদার সাহস থাকলে এখানে প্রার্থী হয়ে দেখাক।"
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কমিশনের সিদ্ধান্তের পর বিরোধীদের আক্রমণের জবাবে এই বার্তার মাধ্যমে আত্মবিশ্বাসী অবস্থানই তুলে ধরতে চেয়েছে All India Trinamool Congress নেতৃত্ব।
অন্যদিকে, তৃণমূলের আরেক মুখ Kunal Ghosh-ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন,
"কমিশনের এত কড়া নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও ভোট লুট হল, অথচ তারা কিছুই ধরতে পারল না।"
একইসঙ্গে তিনি ডায়মন্ড হারবারের পুলিশ পর্যবেক্ষক Ajay Pal Sharma-র বিরুদ্ধেও সরব হয়ে তাঁর সাসপেনশনের দাবি জানিয়েছেন।
কুণালের দাবি, পুরো বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর বক্তব্য,
"ফলতায় পুনর্নির্বাচন হওয়ার আগেই Mamata Banerjee ২৩০-র বেশি আসন নিয়ে সরকার গঠন করবেন, আর ফলতাতেও জিতবে তৃণমূল।"
উল্লেখ্য, গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটে ফলতার একাধিক বুথে ইভিএমের ব্যালট ইউনিটে আঠা লাগানোর অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ ছিল, ভোটারদের ভয় দেখানো, বুথ দখল এবং বুথের ভিতরে অবৈধভাবে রাজনৈতিক কর্মীদের উপস্থিতিও দেখা যায়।
শনিবার সকাল থেকেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায় হাশিমনগর এবং সংলগ্ন এলাকায়। বিজেপির অভিযোগ, তাদের সমর্থক পরিবারগুলির উপর হামলা চালানো হচ্ছে এবং গ্রাম ছাড়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে Election Commission of India ফলতার তৃণমূল প্রার্থী Jahangir Khan-র ঘনিষ্ঠ দুই নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেয়। ইতিমধ্যেই তিন তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
ফলতায় পুনর্নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এখন নজর ২১ মে-র ভোট এবং ২৪ মে-র ফলাফলের দিকে।

