বাংলার রাজনীতিতে তিনি বরাবরই সৌজন্য ও ভদ্রতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত। তৃণমূল কংগ্রেসের জনপ্রিয় সাংসদ হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে বিজেপি-ঘনিষ্ঠ শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। রূপা গঙ্গোপাধ্যায় কিংবা মিঠুন চক্রবর্তীর মতো বিজেপি-সমর্থক তারকাদের নিজের ছবিতে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময়ে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে।
তবুও নিজের অবস্থান থেকে কখনও সরে যাননি দেব। বরং ব্যবস্থার মধ্যেই থেকে সেই ব্যবস্থাকে প্রশ্ন করার সাহস দেখিয়েছেন তিনি। এর ফলে অনেকের বিরাগভাজন হলেও নিজের নীতিতে অটল থেকেছেন টলিউডের এই সুপারস্টার। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার বাংলা চলচ্চিত্র জগতে আরও ইতিবাচক পরিবেশের আশা করছেন তিনি।
শুক্রবার রাতে 'ফেরা' ছবির প্রিমিয়ারে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন দেব। নতুন সরকারের অধীনে টলিউডের ভবিষ্যৎ এবং শিল্পী-কলাকুশলীদের জন্য সম্প্রতি চালু হওয়া স্বাস্থ্য কার্ড নিয়ে তাঁর মতামত জানতে চাওয়া হয়। উত্তরে দেব বলেন, নতুন সরকারকে কাজের সুযোগ ও সময় দেওয়া প্রয়োজন। কারণ এখনও পুরো মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি। তাঁর বিশ্বাস, নতুন প্রশাসন বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা নেবে। তিনি আরও বলেন, সরকার পরিচালনার ফলাফল বিচার করতে অন্তত এক বছর সময় দেওয়া উচিত।
বাংলা চলচ্চিত্র শিল্প নিয়ে নিজের আশাবাদের কথাও তুলে ধরেন দেব। তাঁর মতে, নতুন সরকারের আমলে ইন্ডাস্ট্রির জন্য আরও অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। অতীতের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আগের সরকারের সময় যেসব সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে, এবার সেরকম পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হবে না বলেই তিনি আশা করছেন।
কয়েকদিন আগেই এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন দেব। দু'জনেই মেদিনীপুরের সন্তান হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি হাসিমুখে জানান, মেদিনীপুর সবসময়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। এছাড়া ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও তিনি নতুন সরকারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। জানা গিয়েছে, এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে চলচ্চিত্র জগতে কোনও শিল্পী যাতে রাজনৈতিক কারণে বঞ্চিত না হন এবং সকলেই যেন স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পান, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন দেব।
২০১৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের হাত ধরে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন দেব। তারপর থেকে সাংসদ হিসেবে টানা তিনবার নির্বাচিত হয়ে নিজের জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনও বিরোধীদের বিরুদ্ধে কটূক্তি করেননি, কিংবা রাজনৈতিক শালীনতা ভঙ্গের অভিযোগও ওঠেনি তাঁর বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা সত্ত্বেও বিভিন্ন শিবিরের শিল্পীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন, সৌজন্য ও পারস্পরিক সম্মানই তাঁর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের অন্যতম বড় পরিচয়।

