পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের নতুন অধ্যায় শুরু করার লক্ষ্যে সিঙ্গুরে আবারও টাটা গোষ্ঠীর বিনিয়োগ ফেরানোর ইঙ্গিত দিলেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর মতে, সিঙ্গুরে টাটাদের প্রত্যাবর্তন শুধু একটি শিল্প প্রকল্পের পুনরাগমন হবে না, বরং তা রাজ্যের শিল্পবান্ধব ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
এক সাক্ষাৎকারে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, অতীতে সিঙ্গুর থেকে টাটা গ্রুপ-এর ন্যানো প্রকল্প সরে যাওয়ার ঘটনা বিনিয়োগকারীদের কাছে পশ্চিমবঙ্গ সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছিল। সেই পরিস্থিতি বদলাতে এবং নতুন করে শিল্প বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করতে টাটা গোষ্ঠীর প্রত্যাবর্তন একটি প্রতীকী পদক্ষেপ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
২০০৮ সালের ন্যানো প্রকল্পকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আন্দোলন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেই ঘটনার প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের শিল্পক্ষেত্রে পড়েছে। অনেক শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারীর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
শমীকের বক্তব্য, রাজ্যের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলির বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, অটোমোবাইল শিল্প হোক বা অন্য কোনও ক্ষেত্র, টাটা গোষ্ঠীর মতো প্রতিষ্ঠানের নতুন বিনিয়োগ পশ্চিমবঙ্গের প্রতি শিল্পমহলের আস্থা বাড়াতে সাহায্য করবে।
একইসঙ্গে তিনি ভূমি অধিগ্রহণ নীতি নিয়ে নতুন ভাবনার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন। শিল্পায়নের স্বার্থে সুস্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত জমি নীতি প্রয়োজন বলে মন্তব্য করে তিনি জানান, এই বিষয়ে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। তবে এখনই সেই নীতির বিস্তারিত প্রকাশ করতে চাননি তিনি।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, যে সিঙ্গুর আন্দোলন একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর উত্থানের অন্যতম ভিত্তি হয়েছিল, সেই সিঙ্গুরকেই এবার শিল্পের প্রত্যাবর্তনের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে বিজেপি। ফলে শিল্প ও রাজনীতি- দুই ক্ষেত্রেই সিঙ্গুরকে ঘিরে নতুন বিতর্ক ও আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

