সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি-র উপর হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ বলে জানা গিয়েছে। যদিও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি, তবুও পুলিশের পক্ষ থেকে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
তদন্ত সূত্রে খবর, গ্রেফতার হওয়া কয়েকজনের অতীতে স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যোগ ছিল। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ একসময় সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক লাভলি মৈত্র-র ঘনিষ্ঠ বলেই এলাকায় পরিচিত ছিলেন বলে দাবি উঠেছে। এই তথ্য সামনে আসার পর থেকেই ঘটনার নেপথ্য কারণ নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
শনিবারের ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন যে এর পিছনে বিজেপির হাত রয়েছে। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, যে এলাকায় দীর্ঘদিন তৃণমূলের শক্তিশালী সংগঠন ছিল, সেখানে হঠাৎ করে এত বড় বিক্ষোভ কীভাবে তৈরি হল? এই প্রশ্ন ঘিরেই বিভিন্ন মহলে নানা ব্যাখ্যা সামনে আসছে।
অন্যদিকে, স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের দাবি, অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে দলবদল করে আসা ব্যক্তিদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ফলে হামলার নেপথ্যে ঠিক কারা রয়েছে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি।
পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছে এবং ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পুরো ঘটনার সূত্র খোঁজার চেষ্টা করছে। তদন্তকারীদের মতে, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখেই হামলার প্রকৃত কারণ ও সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
সোনারপুরের এই ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। হামলার নেপথ্যে কারা ছিল এবং এর পিছনে আদৌ কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ কাজ করেছে কি না, তার উত্তর এখন তদন্তের উপরেই নির্ভর করছে।

