তোলাবাজির অভিযোগ ঘিরে বড়সড় সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিল রাজ্য বিজেপি। দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে একযোগে ২২ জন কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। রাজ্যে সরকার গঠনের পর থেকেই কলকাতা-সহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিজেপির কিছু কর্মীর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ সামনে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব উদ্বেগ প্রকাশ করছিল।
অবশেষে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এই ইস্যুতে প্রথম থেকেই সরব ছিলেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, অর্জুন সিং এবং অগ্নিমিত্রা পাল। বিভিন্ন কর্মসূচি ও সাংগঠনিক বৈঠকে তাঁরা স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, তোলাবাজির মতো অভিযোগ কোনও অবস্থাতেই মেনে নেওয়া হবে না এবং প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কিছুদিন আগেই কর্মীদের উদ্দেশে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেছিলেন, তৃণমূলের থেকে চলে আসা এই ধরনের সংস্কৃতি ত্যাগ না করলে ভবিষ্যতে তার গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে। পাশাপাশি তিনি কর্মীদের সংশোধনের জন্য ১৫ দিনের সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছিলেন। যদিও সেই সময় শেষ হওয়ার আগেই দল শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করল।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর বিজেপির শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি প্রায় আড়াইশোর বেশি কর্মীকে শোকজ নোটিস পাঠায়। প্রত্যেকের কাছেই অভিযোগের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। পরে সেই জবাব খতিয়ে দেখে প্রায় ৮০ জনের বক্তব্য সন্তোষজনক বলে মনে করে তাঁদের বিরুদ্ধে জারি হওয়া শোকজ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
তবে বহু কর্মী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনও উত্তর দেননি। আবার যাঁরা জবাব দিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকের ব্যাখ্যাও গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেনি শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। সেই কারণেই ২২ জনের বিরুদ্ধে সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দল সংগঠনের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিজেপি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ক্ষমতায় আসার পর দলের কোনও কর্মীর বিরুদ্ধে ওঠা তোলাবাজির অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গেই দেখা হবে। সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হলে প্রয়োজনে কঠোর প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না দল।
এদিকে জানা গিয়েছে, রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনশল আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন। সেই বৈঠকে তোলাবাজির অভিযোগ এবং তা মোকাবিলায় দলের পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
পর্যবেক্ষকদের মতে, সুনীল বনশলের সফরের ঠিক আগে ২২ জন কর্মীকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত কেবলমাত্র শৃঙ্খলামূলক পদক্ষেপ নয়, বরং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছেও একটি স্পষ্ট বার্তা। রাজ্য নেতৃত্ব বোঝাতে চাইছে যে অভিযোগগুলিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কোনও রকম আপস করা হবে না।
এখন রাজনৈতিক মহলের নজর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও রাজ্য নেতৃত্বের আসন্ন বৈঠকের দিকে। সেই বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয় এবং ভবিষ্যতে আরও কোনও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, সেটাই আগামী দিনের রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

