নবদ্বীপে ত্রাণসামগ্রী মজুতকে কেন্দ্র করে বিস্ফোরক পরিস্থিতি। গভীর রাতে পুলিশের অভিযানে একটি ক্লাবঘর থেকে বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারের পর আটক করা হল নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহাকে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ছড়ায় ব্যাপক উত্তেজনা। চেয়ারম্যানকে পুলিশ নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতার রোষের মুখেও পড়তে হয় তাঁকে।
পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ নবদ্বীপের বরালহাট এলাকার একটি স্পোর্টিং ক্লাবে হানা দেয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। সেখানে একাধিক ঘরে মজুত অবস্থায় পাওয়া যায় ত্রাণের ত্রিপল, কম্বল এবং বিপুল সংখ্যক শাড়ি। অভিযোগ, সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ করার বদলে দীর্ঘদিন ধরে ওই সামগ্রী ক্লাবঘরে গচ্ছিত রাখা হয়েছিল।
অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, সরকারি প্রকল্পের আওতায় আসা ত্রাণসামগ্রী প্রকৃত উপভোক্তাদের হাতে পৌঁছায়নি। বরং সেগুলি ক্লাবঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। ঘটনাটি সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী।
রাত বাড়তেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাত প্রায় পৌনে চারটে নাগাদ পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা চেয়ারম্যানের বাড়িতে পৌঁছে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যান। সেই সময় বাড়ির সামনে জড়ো হওয়া বহু মানুষ বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। 'চোর চোর' স্লোগানের পাশাপাশি জুতো ও জলের বোতলও ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে মৃদু লাঠিচার্জ করতে হয়।
যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিমানকৃষ্ণ সাহা। তাঁর দাবি, তাঁকে গ্রেফতার করা হয়নি, শুধুমাত্র জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কোনও ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে তিনি যুক্ত নন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে ক্লাবঘরে এত বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী কেন মজুত ছিল, সেই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর মেলেনি।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া সামগ্রী কোথা থেকে এসেছে, কার নির্দেশে ক্লাবে রাখা হয়েছিল এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে তা পৌঁছায়নি কেন- সেই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। নবদ্বীপের এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তুমুল চাপানউতোর।

