Wednesday, 08 Jan, 9.25 am সংবাদ সারাদিন

হোম
কুমারগঞ্জে নৃশংসভাবে যুবতী হত্যার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন

সংবাদ সারাদিন, কুমারগঞ্জ : বিয়ের সম্বন্ধের জন্য মঙ্গলবার ছেলে পক্ষ দেখতে আসার কথা ছিল পিয়ালী বর্মণকে(পরিবর্তিত নাম)। বিষয়টি তার প্রেমিক জানতে পারে। তাই তার আগে রবিবার প্রেমিকের সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয় পিয়ালী। শুধু বের হওয়া নয় সঙ্গে প্রয়োজনীয় সব নথি নিয়ে বেরিয়েছিল। ফুলবাড়িতে চাদর কিনতে যাচ্ছে, বাড়িতে একথা বলেই বের হয় পিয়ালী। স্বপ্ন ছিল প্রেমিককে বিয়ে করে সংসার করার। তবে তা আর হয়নি। সোমবার সকালে কুমারগঞ্জ ব্লকের সাফানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বেলঘর এলাকা থেকে পিয়ালীর অগ্নিদগ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার হয়।

জানা গিয়েছে, ধৃত তিন যুবক মাহবুর রহমান, পঙ্কজ বর্মণ ও গৌতম বর্মণ পড়াশুনা অনেক দিন আগেই বাদ দিয়েছে। তারা একসঙ্গে গোয়াতে শ্রমিকের কাজ করত। কিছু দিন আগেই তারা বাড়ি ফিরে আসে। মাহবুর ও মৃতার বাড়ি একই পাড়াতেই। গৌতম মৃতার দূর সম্পর্কের আত্মীয়(মামা)। মৃত পিয়ালীর সঙ্গে মাহবুরের প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। যাতে সহযোগিতা করেছিল গৌতম। তবে তাদের মধ্যে কিছুদিন ধরে ঝামেলা চলছিল। শনিবার দিনই পিয়ালীর মোবাইল ভেঙে দিয়েছিল মাহবুর। তবে রবিবার বাড়ি থেকে ফুলবাড়ী আসতে বলেছিল মাহবুরই। পিয়ালীও সরল বিশ্বাসেই মাহবুরের সঙ্গে দেখা করতে আসে। মাহবুবের বাইকেই বেলঘর এলাকার দিকে রওনা হয়েছিল দু'জনে। এরপর পঙ্কজ ও গৌতম আলাদা বাইকে ঘটনাস্থলে আসে। পূর্ব পরিচিত হওয়ায় তাদের উপর কোনওরকম সন্দেহ হয়নি তার। বাইক নিয়ে সারাদিন ঘোরাঘুরি করার পর রাতে মদ্যপান করে মাহবুর ও পঙ্কজ মিলে ধর্ষণ করে পিয়ালীকে।

অভিযোগ, বেলঘর এলাকায় ওই নির্জন মাঠের মধ্যে গিয়ে বিকেল পাঁচটা থেকে রাত্রি নটা পর্যন্ত মাহবুর ও তার বন্ধুরা মিলে ধর্ষণ করে ওই যুবতীকে। প্রবল ঠান্ডা এবং পাশবিক নির্যাতনের ফলে অচৈতন্য হয়ে পড়ে ওই যুবতী। অজ্ঞান অবস্থায় যুবতীকে গৌতম ধর্ষণ করে। এর পরে মাহবুর অজ্ঞান অবস্থায় পিয়ালীকে দেখে মৃত বলে ভেবে নেয়। এরপরেই বাড়ি থেকে চাকু নিয়ে এসে যুবতীকে নলি কেটে খুন করে। ও পরে গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। প্রেমিক মাহবুরের জালে পড়ে নৃশংসভাবে খুন হতে হয়েছে ওই যুবতীকে। ধৃত যুবকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ এমনই তথ্য পেয়েছে কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ। মঙ্গলবার ধৃতদের বালুরঘাট জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। আগামী ১৬ তারিখ ফের তাদের আদালতে তোলা হবে।

এবিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার দেবর্ষি দত্ত জানান, আজ ধৃতদের আদালতে তোলা হলে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত তিনজনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

বালুরঘাট জেলা আদালতের আইনজীবী জয়ন্ত মজুমদার জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তিনটি ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে ১০ দিনের হেফাজতের আবেদন জানালে বিচারক তা মঞ্জুর করেন।

Dailyhunt
Disclaimer: This story is auto-aggregated by a computer program and has not been created or edited by Dailyhunt. Publisher: Sambad Saradin Bangla
Top