ওয়াশিংটন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ভেনিজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন বা ৬৫০০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) মজুতের ওপর এবার সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ পেতে চলেছে আমেরিকা। শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঐতিহাসিক চুক্তির (World Biggest Oil Deal 2026) কথা ঘোষণা করে একে "বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি" বলে আখ্যা দিয়েছেন।
আমেরিকার সাধারণ করদাতাদের কোনো অর্থ ব্যয় না করেই এই বিপুল তেলের নিয়ন্ত্রণ পেতে চলেছে ওয়াশিংটন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও (Marco Rubio), যুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের (Delcy Rodriguez) মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে এই মেগা চুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত হয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি প্রমাণিত অপরিশোধিত তেলের মজুত (প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল) ভেনিজুয়েলায় থাকা সত্ত্বেও, বর্তমানে দেশটি প্রতিদিন মাত্র ১২.৫ লক্ষ ব্যারেল তেল উৎপাদন করতে সক্ষম।
অন্যদিকে, শক্তি বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ভেনিজুয়েলার সংবিধান অনুযায়ী খনিজ তেলের ওপর বিদেশি কোনো সংস্থার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বেআইনি। ফলে মার্কিন সরকার-সমর্থিত এই লিজ মডেল প্রাথমিকভাবে আইনি বাধার সম্মুখীন হতে পারে।
এই মুহূর্তে আমেরিকার এই পদক্ষেপের নেপথ্যে গভীর ভূ-রাজনৈতিক এবং অভ্যন্তরীণ কৌশল কাজ করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল (US Venezuela Crude Oil Agreement)।
তবে, খনিজ তেলের বিশ্ব বাজারে এই চুক্তির প্রকৃত প্রভাব কতটা পড়বে, তা নিয়ে সন্দিহান শক্তি বিশেষজ্ঞরা। পরিকাঠামো সংস্কার ও আইনি জটিলতা কাটিয়ে কবে নাগাদ এই বিপুল তেল মার্কিন শোধনাগারগুলোতে পৌঁছাবে, সেটাই এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে ভেনিজুয়েলার ৬৫০০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের ওপর আমেরিকা ৫৫% শেয়ার বা সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ পেতে চলেছে, যাকে তিনি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চুক্তি বলেছেন।
আমেরিকা করদাতাদের কোনো অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় না করেই আগামী ১০০ বছরের জন্য ভেনিজুয়েলার ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ তেলখনি থেকে তেল উত্তোলনের অধিকার পাবে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকট মেটাতে সাহায্য করবে।
ভেনিজুয়েলার তেল পরিকাঠামোর জরাজীর্ণ অবস্থা এবং সে দেশের সংবিধান অনুযায়ী খনিজ সম্পদে বিদেশি মালিকানার ওপর থাকা আইনি নিষেধাজ্ঞাই এই চুক্তির প্রধান চ্যালেঞ্জ।

