Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
E20 পেট্রোল বাধ্যতামূলক: মাইলেজ কমবে? ইঞ্জিন নষ্ট হবে? গুজব বনাম বাস্তব জানুন

E20 পেট্রোল বাধ্যতামূলক: মাইলেজ কমবে? ইঞ্জিন নষ্ট হবে? গুজব বনাম বাস্তব জানুন

সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক: ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে সারা দেশে পেট্রোল পাম্পে E20 (২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত) পেট্রোল সরবরাহ বাধ্যতামূলক হয়েছে। কেন্দ্রের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের উপর নির্ভরতা কমানো, পরিবেশ দূষণ হ্রাস করা এবং আখসহ অন্যান্য কৃষিজ ফসল উৎপাদনকারী কৃষকদের অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি করা।

তবে E20 চালু হওয়ার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে। ইঞ্জিন নষ্ট হওয়া, মাইলেজ কমে যাওয়া, এমনকি পেট্রোলে পিঁপড়ে লাগার মতো দাবিও ভাইরাল হয়েছে। সরকার ইতিমধ্যেই এসব বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের ইথানল ব্লেন্ডিং কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে দেশের অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে E20 পেট্রোল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। E20 অর্থ হলো প্রতি ১০০ লিটার পেট্রোলে ২০ লিটার ইথানল এবং ৮০ লিটার পেট্রোলের মিশ্রণ। এর ফলে—

৩০ জুন ২০২৬-এ একটি মামলাকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হয় যে সরকার নাকি সুপ্রিম কোর্টে E20-কে একটি "এক্সপেরিমেন্ট" বা পরীক্ষামূলক প্রকল্প বলে স্বীকার করেছে। তবে এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে জানায় প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB)। পাশাপাশি ভারতের অ্যাটর্নি জেনারেলও স্পষ্ট করেন, আদালতে সরকার এমন কোনও বক্তব্য দেয়নি। ফলে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত খবরকে বিভ্রান্তিকর বলে খারিজ করা হয়েছে।

২৩ জুন ২০২৬ থেকে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছিল—

সরকার জানিয়েছে, এসব দাবির কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। আধুনিক E20-সামঞ্জস্যপূর্ণ (E20 Compatible) যানবাহনের জন্য এই ধরনের জ্বালানি নির্ধারিত মান মেনেই তৈরি করা হয়েছে। তবে পুরনো মডেলের কিছু যানবাহনের ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারক সংস্থার নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জুলাই ২০২৬-এর শুরুতে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে স্বীকার করা হয়েছে যে E20 পেট্রোল ব্যবহারে গড়ে ২ থেকে ৪ শতাংশ পর্যন্ত মাইলেজ কমতে পারে। তবে সরকারের মতে, এই সামান্য পার্থক্যের বিনিময়ে দেশ দীর্ঘমেয়াদে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পাচ্ছে—

কেন্দ্র ইতিমধ্যেই Flex-Fuel Vehicle ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে একই গাড়িতে বিভিন্ন মাত্রার ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহার করা সম্ভব হবে। খুব শীঘ্রই E85 এবং E100 জ্বালানি বাজারে আনার প্রস্তুতি চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক বছরে ভারতের বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হতে পারে।

ভারতে E20 পেট্রোল চালু হওয়া শুধু জ্বালানির পরিবর্তন নয়, বরং জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং কৃষি অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার একটি দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত পদক্ষেপ। যদিও সামান্য মাইলেজ কমার বিষয়টি সরকার স্বীকার করেছে, তবে ইঞ্জিন নষ্ট হওয়া বা অন্যান্য ভাইরাল দাবির পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই E20 নিয়ে বিভ্রান্তির বদলে সরকারি তথ্য এবং প্রস্তুতকারক সংস্থার নির্দেশিকাকেই গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

উত্তর: না। সরকার এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুমোদিত E20-সামঞ্জস্যপূর্ণ যানবাহনে E20 ব্যবহারে ইঞ্জিন নষ্ট হওয়ার কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

উত্তর: হ্যাঁ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী গড়ে প্রায় ২-৪ শতাংশ পর্যন্ত মাইলেজ কমতে পারে।

উত্তর: না। এই দাবি সম্পূর্ণ গুজব এবং বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন বলে সরকার জানিয়েছে।

উত্তর: জ্বালানি আমদানি কমানো, পরিবেশ দূষণ হ্রাস করা, কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং বায়ো-ফুয়েল ব্যবহারের প্রসারের জন্য।

উত্তর: হ্যাঁ। ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তির অংশ হিসেবে E85 এবং E100 জ্বালানি চালুর প্রস্তুতি চলছে।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Sangbad Ekalavya