সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক: ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে দেশজুড়ে E20 পেট্রোল বাধ্যতামূলক হওয়ার পর থেকেই সাধারণ গাড়িচালকদের মধ্যে একাধিক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। কেউ বলছেন এতে ইঞ্জিনের ক্ষতি হবে, আবার কেউ দাবি করছেন মাইলেজ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকার বলছে, দীর্ঘমেয়াদে এই জ্বালানিই ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষার অন্যতম বড় পদক্ষেপ।
সাম্প্রতিক বিতর্কের মধ্যেও সরকার E20 নীতিতে অনড় রয়েছে।
E20 হল এমন একটি জ্বালানি যাতে ৮০ শতাংশ পেট্রোলের সঙ্গে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানো হয়। ইথানল মূলত আখ, ভুট্টা ও অন্যান্য কৃষিজ কাঁচামাল থেকে উৎপাদিত একটি বায়ো-ফুয়েল।
সরকারের লক্ষ্য—
ভারত এখনও বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। E20 ব্যবহারের ফলে সেই নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সরকারের দাবি, ইথানল উৎপাদনের জন্য কৃষিপণ্যের চাহিদা বেড়েছে। এর ফলে কৃষকদের কাছে প্রায় ₹১.৫৮ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি অর্থ পৌঁছেছে।
ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহারে কার্বন নিঃসরণ কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যা পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
E20-এর পর ধাপে ধাপে E85 ও E100 জ্বালানি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য নতুন প্রজন্মের Flex-Fuel গাড়ি ও মোটরসাইকেল বাজারে আসছে।
সরকারের মতে, E20-সামঞ্জস্যপূর্ণ আধুনিক গাড়িতে ত্বরণ (Acceleration) ও রাইড কোয়ালিটি ভালো হতে পারে।
সবকিছুরই কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে। E20-ও তার ব্যতিক্রম নয়।
বর্তমানে ইঞ্জিন নষ্ট হওয়ার দাবির পক্ষে সরকার কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পায়নি। বরং সরকার জানিয়েছে, E20 চালুর আগে ARAI, তেল বিপণন সংস্থা এবং গাড়ি প্রস্তুতকারকদের মাধ্যমে একাধিক পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে পুরনো মডেলের গাড়ির ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারকের পরামর্শ মেনে চলাই নিরাপদ।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমে E20 নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। কিছু গাড়িচালক মাইলেজ ও পারফরম্যান্স নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, আবার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে সরকার বলছে, অধিকাংশ ভাইরাল দাবি অতিরঞ্জিত বা বিভ্রান্তিকর এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে।
উত্তর: নতুন প্রজন্মের অধিকাংশ E20-কমপ্যাটিবল গাড়ি সহজেই চলবে। পুরনো গাড়ির ক্ষেত্রে নির্মাতার পরামর্শ দেখা উচিত।
উত্তর: সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী গড়ে ২-৪ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।
উত্তর: হ্যাঁ। এর লক্ষ্য কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো।
উত্তর: সরকার ধাপে ধাপে E85 ও E100 জ্বালানি চালুর পরিকল্পনা করছে।

