নাবালিকা ধর্ষণ-খুন মামলার মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের পদক্ষেপকে প্রকাশ্যেই সমর্থন করলেন পানিহাটির বিধায়ক তথা আরজি করের নির্যাতিতা অভয়ার মা রত্না দেবনাথ। তাঁর দাবি, ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণের সময় অভিযুক্ত পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর চেষ্টা করেছিল।
সেই পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয়। “পুলিশ ঠিক কাজ করেছে। একজন ধর্ষকের পরিণতি এটাই হওয়া উচিত,” মন্তব্য রত্না দেবনাথের। তাঁর মতে, শুধু প্রভাস নয়, এই ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকেরই কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত এবং কড়া পদক্ষেপই ভবিষ্যতে এমন অপরাধ রুখতে বার্তা দেবে।
আরজি কর মামলার প্রসঙ্গ টেনে তাঁর দাবি, “বিচারপ্রক্রিয়া আগের সরকারের আমলে শুরু হলেও এখনও আমরা বিচার পাইনি। এখন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে, মানুষ বিচার পাবে।” এনকাউন্টারে নিহত অভিযুক্তের মা ছেলের দেহ নিতে অস্বীকার করে পুলিশের পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন বলেও উল্লেখ করেন রত্না দেবনাথ।
তাঁর কথায়, “নিজের সন্তানকে হারিয়েও যিনি অপরাধের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন, তিনি একজন সাহসী মা।” একই সুর শোনা গিয়েছে অভয়ার বাবা শেখর দেবনাথের গলাতেও। তিনি বলেন, “মাত্র তিন দিনের মধ্যে সব অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এটা পুলিশের ভালো কাজ। ধর্ষকদের সবসময়ই চূড়ান্ত শাস্তি হওয়া উচিত। আর এই ঘটনায় তো পুলিশই আক্রান্ত হয়েছে। তাই পুলিশ আইনানুগ পদক্ষেপই নিয়েছে।”
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার গভীর রাতে বারুইপুর কাণ্ডে ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণের সময় প্রভাস মণ্ডল পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলে পুলিশের দাবি। আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালালে সে গুরুতর জখম হয়। পরে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

