Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
'বেনোজল' বের করে ভোট হবে টলিউডে! কাজটা সহজ নয়

'বেনোজল' বের করে ভোট হবে টলিউডে! কাজটা সহজ নয়

গিল্ড ঢেলে সাজাচ্ছে নবনির্বাচিত সরকার। তবে এত বছরের বেনোজল ছেঁকে বৈধ-অবৈধ পৃথক করা, চাট্টিখানি কথা নয়।

'থুরথুরে অন্ধ পেঁচা এসে বলেনি কি: 'বুড়ি চাঁদ গেছে বুঝি বেনোজলে ভেসে চমৎকার।'' 'বেনোজল' শব্দটা শুনলেই কিছু বাঙালির স্মৃতিতে জীবনানন্দ দাশের বিষাদ ও আত্মহত্যার ভাবনায় আচ্ছন্ন 'আট বছর আগের একদিন' কবিতার এই পঙ্ক্তি ও প্রশ্ন ভেসে উঠতে পারে।

‘বন্যা’ থেকে ‘বেনো’-এই চলতি ঘরোয়া রূপ নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘বেনোজল’, যার সঙ্গে মিশে আছে বন্যায় ভেসে আসা আবর্জনা, এবং ক্ষতিকর নানা বিস্তর অনুষঙ্গ। কিন্তু বেনোজলে শুধুই ভেসে আসে না কলঙ্ক, আবিল্য, বর্জনীয় ক্লেদ ও পঙ্কিলতা। ভেসে যায় অনেক মহার্ঘ দ্রব্য, রক্ষণীয় বস্তু, দুর্লভ রত্ন। জীবনানন্দর অন্ধ পেঁচার আর্ত প্রশ্ন, চাঁদও কি ভেসে গিয়েছে বেনোজলে, এ সত্যটি মনে করিয়ে দেয়।

১৭ আগস্ট সোমবার সরকারি বৈঠকে এই দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, ‘বেনোজল’ বের করে তবে ভোট হবে টলিউডে। তাহলেই শুধু বৈধ সদস্যরাই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। অধিকাংশ সদস্যের অভিযোগ, তৃণমূলের শাসন কালে এমন বহু ব্যক্তিকে বিভিন্ন গিল্ডের সদস্য পদ দেওয়া হয়েছে- যারা সিনেমা পেশার সঙ্গে আদৌ জড়িত নয়। এই ভুয়ো ভোটারদের টলিউডে ঢোকানো হয়েছিল শুধুমাত্র সেখানে রাজনৈতিক ক্ষমতা ও দাদাগিরি ধরে রাখার জন্য। এই বৈঠকের সিদ্ধান্ত, বেনোজল বের করতে টলিউডের ভোটার তালিকাতেও চাই বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী, রুদ্রনীল ঘোষ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, অভিনেতা জিৎ এবং তথ্যসংস্কৃতি দফতরের গণ্যমান্যগণ।

১৭ আগস্ট সোমবার সরকারি বৈঠকে এই দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, ‘বেনোজল’ বের করে তবে ভোট হবে টলিউডে। তাহলেই শুধু বৈধ সদস্যরাই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।

টলিউডের যে ‘বেনোজল’ বের করার জন্য এই নির্বাচনী বৈঠক, তার গুরুত্ব ও আসন্ন কর্মপদ্ধতি বুঝতে টলিউডে কাজের স্ট্রাকচারটা চোখের সামনে থাকলে সুবিধা। ফিল্ম তৈরির সমস্ত কাজটা চালাচ্ছে ২৬টা গিল্ড। কোনও গিল্ড সাউন্ড আর্টিস্টদের। কোনও গিল্ড মেক-আপ আর্টিস্টদের। কোনও গিল্ড প্রোডাকশন ম্যানেজারদের।

শেষ পর্যন্ত যে টলিউডের বিশেষ গোষ্ঠীর দাদাগিরি বন্ধ হয়ে গণতন্ত্রের বাতাসের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে, এর নেপথ্যে মিঠুন চক্রবর্তী, রুদ্রনীল ঘোষ, জিৎ ও দেবের উদ্যোগ বিশেষভাবে অভিনন্দনযোগ্য।

২৬টা গিল্ডেই নাকি আগের প্রশাসন ‘অবৈধ’ সদস্যদের বেনোজল ঢুকিয়ে রেখে গিয়েছে। সেই আবর্জনাদের ছেঁকে বের করে বর্জন করতে হবে। তবেই অর্জন করা যাবে সঠিক ও শুদ্ধ নির্বাচনের পথ ও গ্যারান্টি। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন খুব সহজ কাজ নয়। এত বছরের জমে থাকা, সযত্নে সংরক্ষিত বেনোজল ছেঁকে বৈধ-অবৈধ সংশয়াতীতভাবে পৃথক করা, চাট্টিখানি কথা নয়। এরপর চাই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও ভোট গণনা।

টলিউডের নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণভাবে হয়, সেই মর্মে গিল্ডের সদস্যরা ইতিমধ্যেই সরকারি আধিকারিক এবং পুলিশের নজরদারির দাবি করেছেন। শেষ পর্যন্ত যে টলিউডের বিশেষ গোষ্ঠীর দাদাগিরি বন্ধ হয়ে গণতন্ত্রের বাতাসের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে, এর নেপথ্যে মিঠুন চক্রবর্তী, রুদ্রনীল ঘোষ, জিৎ ও দেবের উদ্যোগ বিশেষভাবে অভিনন্দনযোগ্য। রুদ্রনীল ঘোষণা করেছেন, যত দিন না নির্বাচন হচ্ছে, তত দিন টলিউডে যে-নিয়ম চলছে, তাই মেনে কাজ করতে হবে কর্মীদের।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Sangbad Pratidin