Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story

বিপদের আগে ঘামে ভৈরব মূর্তি! পাহাড়ের কোলে এই মন্দিরের গোপন রহস্য জানেন?

হিমাচল প্রদেশের কাংড়া উপত্যকা। পাহাড়ের কোলে লুকিয়ে থাকা এ যেন এক অলৌকিক চত্বর! এখানেই রয়েছে মা বজ্রেশ্বরী দেবীর প্রাচীন মন্দির। শতাব্দী প্রাচীন এই পীঠস্থান শুধু ভক্তিতে নয়, এক অদ্ভুত রহস্যে মোড়া। মন্দির চত্বরে রয়েছে ভৈরব বাবার এক কষ্টিপাথরের মূর্তি। আর সেই মূর্তিকে ঘিরেই আপামর ভক্তের চরম বিস্ময়।

দেশ বা রাজ্যে কোনও বড়সড় বিপর্যয় আসার আগেই আগাম জানান দেয় এই পাথর। কীভাবে? স্বয়ং ভৈরব বাবার শরীর বেয়ে নাকি নেমে আসে বিন্দু বিন্দু ঘাম!

 ছবি: সংগৃহীত

শুনতে রূপকথা মনে হলেও স্থানীয়দের কাছে এটাই পরম সত্য। বজ্রেশ্বরী দেবী মন্দিরের ভৈরব মূর্তিটি নিরেট পাথরের। কিন্তু লোকবিশ্বাস, কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বড় সংকট আসার ঠিক আগেই এই মূর্তির গা বেয়ে ঘাম ঝরতে থাকে। শুধু ঘামই নয়, কখনো কখনো নাকি বাবার চোখ দিয়ে অশ্রুধারাও বয়ে যায়। পাথরের চোখ থেকে জল পড়ার এই দৃশ্য দেখে থমকে যান আধুনিক যুগের যুক্তিবাদীরাও! লাখ লাখ পুণ্যার্থী এই অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী।

মূর্তির গায়ে ঘামের রেখা দেখলেই সতর্ক হয়ে যান মন্দিরের প্রধান পুরোহিত ও সেবাইতরা। তাঁরা বোঝেন, কোনও এক মহাবিপদ ঘনিয়ে আসছে। অমঙ্গলের মেঘ কাটানোর জন্য তড়িঘড়ি শুরু হয়ে যায় বিশেষ পুজো ও গোপন অনুষ্ঠান। ভৈরব বাবার ক্রোধ শান্ত করতে এবং আসন্ন বিপদ থেকে দেশকে রক্ষা করতে চলে আকুল প্রার্থনা।

 ছবি: সংগৃহীত

১৯০৫ সালের সেই সেই অভিশপ্ত ভূমিকম্প!
ইতিহাসের পাতায় এর এক অকাট্য প্রমাণ মেলে। ১৯০৫ সালে কাংড়ায় এক বিধ্বংসী ভূমিকম্প হয়েছিল। প্রবীণদের মুখে মুখে ফেরে সেই কাহিনি। ভূমিকম্পের ঠিক কয়েক দিন আগে থেকেই নাকি ভৈরব মূর্তিটি অবিরল ঘেমে চলেছিল। সেসময় সাধারণ মানুষ এই ইশারা বুঝতে পারেননি। তার পরেই নামে সেই ভয়াবহ বিপর্যয়। সেই থেকে আজ পর্যন্ত মূর্তির গায়ে জলের বিন্দু দেখলেই প্রশাসন থেকে আমজনতা-সবাই চটজলদি সতর্ক হন।

বিজ্ঞানীরা অবশ্য এই রহস্যের জট খোলার চেষ্টা কম করেননি। কেউ বলেছেন বাতাসের আর্দ্রতা, কেউ বা পাথরের রাসায়নিক বিক্রিয়া। কিন্তু রহস্যের আসল চাবিকাঠি অধরাই থেকে গিয়েছে। কারণ, বিজ্ঞান আজও ব্যাখ্যা করতে পারেনি যে, কেবল মাত্র সংকটের আগেই কেন এই পাথর ঘামবে? যুক্তি আর তর্কের ঊর্ধ্বে গিয়ে তাই আজও অটুট রয়েছে কোটি কোটি মানুষের বিশ্বাস।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Sangbad Pratidin