বদলের বঙ্গে বুলডোজার অ্যাকশনের সাক্ষী থেকেছে খাস কলকাতা। এবার নয়ের দশকের জনপ্রিয় বলিউড অভিনেতা চন্দ্রচূড় সিংয়ের বাড়িতে বুলডোজার অ্যাকশন। গুরগাঁওয়ের ডিএলএফ এলাকায় অবস্থিত বাড়ির সংলগ্ন একটি নির্মাণ ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে 'ডিপার্টমেন্ট অব টাউন অ্যান্ড কান্ট্রি প্ল্যানিং' তথা ডিটিসিপি।
জবরদখল উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। হাফপ্যান্ট পরেই ঘটনাস্থলে তড়ঘড়ি ছুটে এলেন অভিনেতা। আধিকারিকদের সঙ্গে কথাও বলেন চন্দ্রচূড়।
সামাজিকমাধ্যমে ঝড়ের গতিতে মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে সেই মুহূর্ত। অতঃপর এই ভিডিও নেটভুবনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিল্ডিং প্ল্যানের বাইরে নির্মাণ, বেআইনি সম্প্রসারণ এবং আবাসিক সম্পত্তিকে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগে একাধিক নির্মাণে চলছে বুলডোজার। ভাঙার কাজ শুরু হতেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন 'মাচিস' খ্যাত অভিনেতা।
নয়ের দশকের অভিনেতা চন্দ্রচূড়জানতে চান, অভিযান কি শুধুমাত্র বাড়ির বাইরের অংশেই সীমাবদ্ধ থাকবে নাকি ভিতরেও চলবে? একইসঙ্গে তিনি জানান, তাঁর বাবা ১৯৯১ সালে এই জায়গাটি কিনেছিলেন। একগুচ্ছ প্রশ্নও করেন অভিনেতা। জানতে চান বাড়ির বাইরের অংশ কেন ভাঙা হচ্ছে? এই প্রক্রিয়াটি সরকারি নথিভুক্ত করা হচ্ছে? এই অভিযানের দায়িত্বে কে?
অভিনেতার বাড়িতে বুলডোজারতবে পুরো সময়টাই চন্দ্রচূড়কে অত্যন্ত সংযত ও শান্ত থাকতে দেখা যায়। ডিটিপি আধিকারিক অমিত মাধোলিয়া নিজের পরিচয় দেওয়ার পর অভিনেতা তাঁর সঙ্গে করমর্দন করেন। এছাড়াও উপস্থিত অন্যান্য আধিকারিকদের সঙ্গেও হাসি মুখে ভাব বিনিময় করেন। কোনও রকম উত্তেজনা বা বাগ্বিতণ্ডা ছাড়াই কথোপকথনের সমাপ্তি হয়। অমিত মাধোলিয়া অভিনেতাকে আশ্বস্ত করেন এই উচ্ছেদ অভিযান শুধুমাত্র বাড়ির বাইরের অবৈধ অংশেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
অভিযান সম্পর্কে তিনি জানান, ডিএলএফ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ জমা পড়ছিল। সেই কারণেই শহরের মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী বেআইনি বাড়ি নির্মাণ, অনুমোদনহীন সম্প্রসারণ এবং আবাসিক প্লটের বাণিজ্যিক ব্যবহার রুখতে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। তবে এই ঘটনা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেননি চন্দ্রচূড় সিং।
