Saturday, 11 Aug, 3.16 am সব খবর

ইতিহাস
১৯২৯ হইতে ১৯৩১ সাল পর্যন্ত আইন অমান্য আন্দোলনে মহাত্মা গান্ধীর ভূমিকা।

সূচনাঃ- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাশিত হয়। অসহযোগ আন্দোলনের ব্যর্থতা সাময়িকভাবে জাতীয় জীবনে হতাশা নেমে আসে। ১০২৭ খ্রিস্টাব্দে ভারতের জাতীয় জীবনে এক নতুন শক্তির উদ্ভব হয়। ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের লাহোর কংগ্রেসে স্থির হয় যে ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ২৬ শে জানুয়ারি দিনটাকে ভারতবাসী স্বাধীনতা দিবস হিসাবে পালন করবে। যতদিন না স্বাধীনতা লাভ হয় ততদিন প্রতিবছর ২৬ শে জানুয়ারি স্বাধীনতা দিবস পালিত হবে। স্বাধীনতা দিবসের শপথ নামায় গ্রামে -গঞ্জে - শহরে ২৬শে জানুয়ারি জনসভার মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়। এই শপথ নামায় বলা হয় যে, 'আমরা বিশ্বাস করি ভারতবাসী তথা সমগ্র মানব জাতির স্বাধীনতার সুফল ভোগ করিবার অধিকার আছে', এইভাবে আইন অমান্য আন্দোলন শুরু হয়। গান্ধীজী বলেন এই আন্দোলন সম্পূর্ণ অহিংসার মাধ্যমে চলবে

আইন অমান্য আন্দোলনে গান্ধীজীঃ- গান্ধীজীর আইন অমান্য আন্দোলনে কয়েকটি বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। প্রথমতঃ গান্ধীজি নিজে এবং তাঁর ডাকে ভারতের সফল স্থানে সরকারের লবণ আইনকে বেশিরভাগ ভঙ্গ করেন। দ্বিতীয়তঃ লবন আইন ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে, সরকারি কর, ভূমি রাজস্ব বন্ধ, বিলিতি কাপড় বয়কট প্রভৃতি দ্বারা আইন অমান্য করা হয়। তৃতীয়তঃ আইন অমান্য আন্দোলনে ভারতীয় নারী সমাজ ও কিশোর শ্রেণী দলে দলে ঝাঁপিয়ে পড়েন। অনেকে আইন অমান্য আন্দোলন কে ভারতের নারী মুক্তি আন্দোলনের প্রধান ধাপ বলে মনে করেন। চতুর্থতঃ আইন অমান্য আন্দোলনে ভারতীয় মুসলিম নেতাদের একাংশ এবং উচ্চ শ্রেণীর মুসলিমরা উত্‍সাহ দেখাননি তবে নিম্নশ্রেণীর মুসলিম ভাইরা যোগ দেন। পঞ্চমতঃ আইন অমান্য আন্দোলনে ১৯২০-২১ খ্রিস্টাব্দে অসহযোগ আন্দোলনের মত শ্রমিক শ্রেণী স্বতঃস্ফূর্তভাবে সর্বত্র যোগ দেননি। ষষ্ঠতঃ আইন অমান্য আন্দোলন শহর অপেক্ষা গ্রামাঞ্চলে তীব্রতর হয় এবং গ্রামীণ মধ্যবিত্ত ও কৃষানরা দলে দলে এই আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। সপ্তমতঃ এই আন্দোলনে গান্ধীজী তাঁর দৃঢ় নেতৃত্বের পরিচয় দেন।

ডান্ডি অভিযান ও অন্যান্য আইন অমান্য আন্দোলনঃ- আইন অমান্য আন্দোলনের প্রস্তুতি স্বরূপ মহাত্মা গান্ধী ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ২রা মার্চ ভাইসরয় আরউইনকে এক পত্রে এগার দফা দাবি প্রকাশ করেন। কিন্তু এই দাবি প্রত্যাখ্যাত হলে ১২ই মার্চ লবণ আইন ভঙ্গ করার উদ্দেশ্যে গান্ধীজী ৭১ জন সত্যাগ্রহী নিয়ে সবরমতী আশ্রম হইতে গুজরাটের সমুদ্রতীরে ডান্ডি অভিমুখে তাঁহার ঐতিহাসিক যাত্রা আরম্ভ করলেন। ২৪ দিন পর ডান্ডি পৌছে ৬ ই এপ্রিল তারিখে সমুদ্র জল হতে লবন প্রস্তুত করে আইন অমান্য করলেন। দেশবাসী দেশের সর্বত্র লবন প্রস্তুত করার আয়োজন করে আইন অমান্য আন্দোলনে যোগদান করল। যে সকল স্থানে লবণ উত্‍পাদন সম্ভব ছিল না সেখানে বিলাতী দ্রব্য বর্জন, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক পুস্তক বিক্রয়, ১৪৪ ধারা জারি করে সভা-সমিতির আহ্বান, করদান বন্ধ প্রভৃতি কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়; ছাত্র শিক্ষকগণ স্কুল-কলেজ পরিত্যাগ করে, সরকারি কর্মচারীরা অফিস আদালত বর্জন করে এই আন্দোলনে সামিল হন। নারী সমাজ এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিল।

গান্ধীজীর কারাবরণঃ- ডান্ডি অভিযানের পর গান্ধীজি গুজরাটের বীরসানা ও ওয়াজলার সরকারি লবন গুদাম মহাত্মা গান্ধী অহিংস ভাবে দখলের সিদ্ধান্ত নেন। গান্ধীজিকে বীরসানার পথে পুলিশ গ্রেফতার করলে শ্রীমতি সরোজিনী নাইডু আড়াই হাজার সত্যাগ্রহীর সাহায্যে পুলিশ বেষ্টনী ও পুলিশের লাঠি উপেক্ষা করে বীরসানার লবন গোলা দখল করেন। মহাত্মা গান্ধীকে গ্রেফতারে আইন অমান্য আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। পেট্রোলের পলতে আগুনের সংস্পর্শে এলে যেমন দপ করে জ্বলে ওঠে, ডান্ডি অভিযানের পর সারা ভারতে আইন অমান্য আন্দোলন ঠিক সেইভাবে জ্বলে ওঠে। গান্ধীজী জনতার শক্তি বুঝে লবণ আইন ভঙ্গের ডাক দেন। জনতা ও অহিংস ভাবে এই আন্দোলনে সাড়া দেন।

উপসংহারঃ- ১৯২৯ থেকে ৩১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত আইন অমান্য আন্দোলনে গান্ধিজীর ভূমিকা অপরিসীম। তিনি আন্দোলনের মাধ্যমে ভারতবাসীকে অহিংস পথের মাধ্যমে বৃহত্তর সংগ্রামের পথে চালিত করতে সমর্থ হয়েছিলেন, ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসে যার প্রভাব অতীব তাত্‍পর্যপূর্ণ।

Dailyhunt
Disclaimer: This story is auto-aggregated by a computer program and has not been created or edited by Dailyhunt. Publisher: Sob Khobor
Top