Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
ডিমের পোস্ত - বাঙালি ঘরানার সুস্বাদু ও ঝরঝরে ডিমের পদ।

ডিমের পোস্ত - বাঙালি ঘরানার সুস্বাদু ও ঝরঝরে ডিমের পদ।

সব খবর 6 days ago

Oplus_131072

ডিমের সঙ্গে পোস্তর সংমিশ্রণ বাঙালি রান্নায় খুবই আকর্ষণীয়। সাধারণত আলু পোস্ত, ঝিঙে পোস্ত বা পটল পোস্ত বেশি পরিচিত হলেও ডিম দিয়ে পোস্ত রান্না করলে তৈরি হয় একেবারে অন্যরকম স্বাদের একটি পদ। পোস্তর মৃদু বাদামি স্বাদ, কাঁচালঙ্কার ঝাঁঝ এবং ডিমের সমৃদ্ধ স্বাদ একসঙ্গে মিশে এই রান্নাটিকে ভাতের সঙ্গে দারুণ মানানসই করে তোলে।

উপকরণ

প্রধান উপকরণ

  • ডিম - ৪টি
  • পোস্তদানা - ৪ টেবিল চামচ
  • পেঁয়াজ - ১টি মাঝারি, পাতলা করে কাটা
  • কাঁচালঙ্কা - ৩-৪টি
  • সর্ষের তেল - ৪ টেবিল চামচ
  • হলুদ গুঁড়ো - ½ চা চামচ
  • লবণ - স্বাদ অনুযায়ী
  • চিনি - ½ চা চামচ
  • কালোজিরে - ½ চা চামচ
  • শুকনো লঙ্কা - ১টি
  • জল - প্রয়োজনমতো

পোস্ত বাটার জন্য

  • পোস্তদানা - ৪ টেবিল চামচ
  • কাঁচালঙ্কা - ১-২টি
  • জল - অল্প

ডিম প্রস্তুত করার পদ্ধতি

প্রথমে ডিমগুলো ভালোভাবে সেদ্ধ করে নিন। ডিম সেদ্ধ হয়ে গেলে ঠান্ডা করে খোসা ছাড়িয়ে নিন।

প্রতিটি ডিমে ছুরি দিয়ে হালকা করে দু-তিনটি চিরে দিন। এতে পরে রান্নার সময় পোস্তর মশলার স্বাদ ডিমের ভিতরেও কিছুটা ঢুকবে।

একটি পাত্রে ডিম নিয়ে সামান্য হলুদ ও লবণ মাখিয়ে রাখুন।

কড়াইয়ে ১-২ টেবিল চামচ সর্ষের তেল গরম করে ডিমগুলো হালকা করে ভেজে নিন। খুব বেশি লাল করে ভাজার দরকার নেই। ডিমের গায়ে হালকা সোনালি রং এলেই তুলে রাখুন।

পোস্ত বাটা তৈরি

পোস্তদানা ভালোভাবে ধুয়ে ১৫-২০ মিনিট জল দিয়ে ভিজিয়ে রাখুন।

এরপর ভেজানো পোস্ত, ১-২টি কাঁচালঙ্কা এবং অল্প জল দিয়ে মিহি করে বেটে নিন।

শিলনোড়ায় বাটলে পোস্তর স্বাদ আরও ভালোভাবে বের হয়। তবে মিক্সারেও বাটা যায়। মিক্সারে পোস্ত বাটার সময় একসঙ্গে বেশি জল দেবেন না। অল্প অল্প করে জল দিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন।

ডিমের পোস্ত রান্নার পদ্ধতি

কড়াইয়ে বাকি সর্ষের তেল গরম করুন।

তেল গরম হলে কালোজিরে ও একটি শুকনো লঙ্কা দিয়ে ফোড়ন দিন।

কালোজিরে একটু ফুটতে শুরু করলে পাতলা করে কাটা পেঁয়াজ দিয়ে দিন।

মাঝারি আঁচে পেঁয়াজ নরম হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। পেঁয়াজ খুব বেশি বাদামি করার প্রয়োজন নেই। হালকা সোনালি হলেই যথেষ্ট।

এবার আঁচ কমিয়ে পোস্ত বাটা দিয়ে দিন।

পোস্ত দেওয়ার পর দ্রুত নাড়তে থাকুন। পোস্ত খুব দ্রুত কড়াইয়ের তলায় লেগে যেতে পারে। তাই এই সময় আঁচ কম রাখা জরুরি।

প্রয়োজনে অল্প অল্প করে জল দিয়ে পোস্ত কষিয়ে নিন।

এরপর হলুদ, লবণ এবং সামান্য চিনি দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।

মশলা থেকে তেল সামান্য ছাড়তে শুরু করলে প্রয়োজনমতো অল্প জল দিন।

এবার ভেজে রাখা ডিমগুলো কড়াইয়ে দিয়ে দিন।

প্রতিটি ডিমের গায়ে পোস্তর মশলা ভালোভাবে মাখিয়ে দিন।

কাঁচালঙ্কা চিরে দিয়ে ঢাকনা দিয়ে ৪-৫ মিনিট কম আঁচে রান্না করুন।

মাঝে একবার কড়াইটি হালকা করে নেড়ে দিন। ডিম যাতে ভেঙে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

গ্রেভি বেশি পাতলা রাখবেন না। ডিমের পোস্ত সাধারণত ঘন, মাখোমাখো অবস্থায় পরিবেশন করলেই বেশি সুস্বাদু লাগে।

শেষে উপর থেকে সামান্য কাঁচা সর্ষের তেল ছড়িয়ে দিয়ে চুলা বন্ধ করে দিন।

পরিবেশনের পদ্ধতি

গরম ভাতের সঙ্গে ডিমের পোস্ত সবচেয়ে ভালো লাগে। চাইলে সাদা ভাতের পাশাপাশি গরম রুটি বা পরোটার সঙ্গেও পরিবেশন করতে পারেন।

ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করার সময় প্লেটে একটি বা দুটি ডিম দিয়ে তার উপর ঘন পোস্তর মশলা ছড়িয়ে দিন। পাশে একটি কাঁচালঙ্কা রাখলে স্বাদ ও পরিবেশন-দুই দিক থেকেই সুন্দর দেখায়।

রান্নাকে আরও সুস্বাদু করার কিছু টিপস

১. পোস্ত ভালোভাবে ভিজিয়ে নিন:
পোস্ত অন্তত ১৫-২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখলে সহজে মিহি হয় এবং রান্নার সময় পোস্তর স্বাদ ভালোভাবে বের হয়।

২. পোস্ত বাটার সময় বেশি জল দেবেন না:
পাতলা পোস্ত বাটা হলে রান্নার সময় মশলা ঘন হতে বেশি সময় লাগে এবং স্বাদও কিছুটা কমে যেতে পারে।

৩. সর্ষের তেল ব্যবহার করুন:
এই রান্নার আসল স্বাদ পাওয়ার জন্য সর্ষের তেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৪. পোস্ত দেওয়ার পর আঁচ কম রাখুন:
উচ্চ আঁচে পোস্ত খুব দ্রুত কড়াইয়ের তলায় লেগে যেতে পারে এবং পোস্ত পুড়ে গেলে পুরো রান্নায় তেতো স্বাদ চলে আসতে পারে।

৫. ডিম বেশি ভাজবেন না:
ডিম শুধু হালকা সোনালি করে ভাজলেই যথেষ্ট। বেশি ভাজলে ডিম শক্ত হয়ে যেতে পারে।

৬. কাঁচালঙ্কা নিজের স্বাদ অনুযায়ী দিন:
ঝাল বেশি পছন্দ করলে কয়েকটি কাঁচালঙ্কা চিরে দিতে পারেন। ঝাল কম পছন্দ করলে একটি বা দুটি কাঁচালঙ্কাই যথেষ্ট।

রান্নার সময়

  • ডিম সেদ্ধ - ১০-১২ মিনিট
  • পোস্ত ভেজানো - ১৫-২০ মিনিট
  • রান্নার প্রস্তুতি - ১০ মিনিট
  • মূল রান্না - ১৫ মিনিট
  • মোট সময় - প্রায় ৪০-৫০ মিনিট

কতজনের জন্য

এই পরিমাণ উপকরণ দিয়ে সাধারণত ৩-৪ জনের জন্য ডিমের পোস্ত তৈরি করা যায়।

পুষ্টিগুণের দিক থেকে

ডিম উচ্চমানের প্রোটিনের একটি পরিচিত উৎস। এতে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে। অন্যদিকে পোস্তদানা খাবারে স্বাদ ও কিছু পুষ্টি উপাদান যোগ করে। তবে পোস্তদানা ও সর্ষের তেল তুলনামূলকভাবে ক্যালরি-সমৃদ্ধ হওয়ায় পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা ভালো।

শেষ কথা

ডিমের পোস্ত এমন একটি রান্না, যা খুব বেশি উপকরণ ছাড়াই বাঙালি রান্নার স্বতন্ত্র স্বাদ তুলে ধরে। আলাদা করে অনেক মশলা ব্যবহার করার প্রয়োজন হয় না। পোস্ত, সর্ষের তেল, কাঁচালঙ্কা ও ডিম-এই কয়েকটি উপকরণের সঠিক ব্যবহারেই তৈরি হয়ে যায় সুগন্ধি, ঝরঝরে এবং মাখোমাখো একটি ডিমের পদ।

গরম ভাতের সঙ্গে দুপুরের খাবারে অথবা হালকা রাতের খাবারে এই পদটি পরিবেশন করা যায়। যারা পোস্ত ভালোবাসেন, তাদের জন্য ডিমের পোস্ত অবশ্যই একবার চেষ্টা করে দেখার মতো একটি রান্না।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Sob Khobor