Wednesday, 16 Oct, 4.56 pm সব খবর

হোম
মা বয়রা কালীর পুজো।

উঃ দিনাজপুর, রাধারানী হালদারঃ- বাংলা লোক সংস্কৃতি ও পুজো পার্বনেও নদ-নদীর বিশিষ্ট ভূমিকা দেখা যায়। এসব ক্ষেত্রে উত্তর দিনাজপুর জেলার নদীগুলির গুরুত্ব অপরিসীম। এই জেলার কালিয়াগঞ্জের শ্রীমতি নদীর তীরে এক সময় বয়রা কালীর পুজো শুরু হয়েছিল বলে জানা যায়। একদা শ্রীমতি নদী খরস্রোতাও বিস্তৃত ছিল। সেই সময় বড় বড় নৌকা গুদরীবাজার ঘাটে এসে লাগতো। শোনা যায় সেই সময় নদী পথে কালিয়াগঞ্জে যে সমস্ত বনিক সম্প্রদায় বানিজ্যের জন্যে আসত তারা নদীরতীরে একটি জঙ্গলের মাঝে বয়রা গাছের তলায় এই পুজোর সূচনা করেছিল এলাকায় বর্ষিয়ান মানুষদের উপলব্ধি থেকে বোঝা যায়। সেই থেকে মা বয়রা কালী নামে এই পুজোর নামকরণ। কথিত আছে কালী পুজোর রাতে মা বয়রা পরিক্রমায় বের হতেন। সেই সময় অনেকেই তার পায়ের নুপুরের আওয়াজ শুনতে পেতেন।
এই বয়রা কালী মন্দিরের গা ঘেসে ১৯২৮ সালে কালিয়াগঞ্জে রেল লাইন স্থাপিত হয়। এই রেল পথেই নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু কালিয়াগঞ্জ হয়ে রায়গঞ্জ এসেছিলেন। স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় বিপ্লবীরা কালিয়াগঞ্জের মজলিসপুরে মাঝে মধ্যেই আস্তানা গড়তেন। শ্রীমতি নদী তীরের জঙ্গলার্কীন স্থানে তাদের বৈঠক হত বলে জানা যায়। ইংরেজরা এই সব স্থানে বিদ্রোহীদের উপর নজর দারির কারনে হাট কালিয়াগঞ্জ থেকে থানা স্থানান্তরিত করে নদীর তীরে জঙ্গলের পাশ্ববর্তী স্থানে নতুন করে স্থাপন করে। সেই সময় কালিয়াগঞ্জ থানার দারোগা ছিলেন নজমূল হক । ইংরেজদের অধীনে চাকরি করলেও তিনি ভারতীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতির যথেষ্ট মর্যাদা দিতেন। একজন খাটি মুসলমান হয়েও হিন্দু ধর্মের প্রতি ছিল আগাধ বিশ্বাস। দারোগা নজমূল হকের উদ্যোগেই এই বিশেষ চেষ্টায় সেদিন তৈরী করা হয়েছিল মা বয়রা কালীর মন্দির। সেই সময় মন্দিরের নির্মানের জন্য তিনি এলাকার মানুষদের কাছে গিয়ে অর্থ ভিক্ষা করে এবং থানায় লবণের গাড়ি নিলাম করে সেই অর্থ দিয়ে মন্দিরের কাজ করেছিলেন। ঐ সময় থেকেই অত্যন্ত নিষ্ঠা ও আচারের মধ্যে দিয়ে মা বয়রা কালীর পুজোর ব্যবস্থা তিনি নিজেই আয়োজন করতেন। চলত সাতদিন ধরে নানা ধরনের গান বাজনার। এখনও সেই সময়কার দারোগা বাবু নজমূল হকের নামে আজও মা বয়রা কালীর মন্দিরের সামনে নজমূল নাট্য নিকেতন নামে একটি নাট্য নিকেতন আজও সাম্প্রদায়িক সম্প্রিতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বহন করে সম্পূর্ন তালে চলছে।
দীর্ঘ দিন বাদে কালিয়াগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কনক প্রসাদ সিকদার প্রচেষ্টায় পুরনো মন্দিরের স্থানে নতুন মন্দির তৈরীর বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। ১৯৬৮ সালে পুরনো কাচা মন্দির ভেঙে পাকা মন্দির নির্মান করা হয়। রায়গঞ্জ-বালুরঘাট রাজ্য সড়কের পাশেই মন্দির অবস্থিত। ১৯৯৮ সালে কালিয়াগঞ্জ বাসীর প্রচেষ্টায় তাদের দীর্ঘদিনের আশা মায়ের অষ্টধাতুর এর বিগ্রহ তৈরী করা হয়। কৃষ্ণনরের শিল্পী এই বিগ্রহ নির্মান করেন। ব্যায় হয় আনুমানিক ৪ লক্ষ টাকা মত। পুজোর সময় অষ্টধাতুর বিগ্রহে যখন মা এর স্বর্নলঙ্কার পড়িয়ে দেওয়া হয় তখন মা বয়রাকে মনে হয় যেন সাক্ষাত্‍ মা বয়রা। মা বয়রা কালীর আকর্ষনে শুধু পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই নয় বিভিন্ন রাজ্য থেকেও ভক্তরা মা এর পুজো দিতে আসেন। মা বয়রা খুব জাগ্রত।সেই প্রথা মেনে আজও পূজা কমেটির সভাপতি থাকেন কালিয়াঞ্জ থানার আইসি।
যারা যেসব মনস্কামনা নিয়ে আসে মা বয়রা কাউকে খালি হাতে ফেরত পাঠান না। মা বয়রা পুজো মন্দিরের পুরহিরতা সারা বছর ধরে অতন্ত নিষ্টা আচার সহকারে পুজো হয়ে থাকে। বিশেষ করে মঙ্গলবার ও শনিবার পুজো দিতে প্রচুর মানুষের সমাগম হয়। কালী পুজোর সময় মা বয়রার পুজোতে ৫ রকমের মাছ ও ৫ রকমের ভাজা ও সবজ্জি দিয়ে ভোগ হয়। প্রতিবছর ভক্তদের নানান ধরনের মানত মা এর পুজো মন্ডপ যেন প্রকৃত তীর্থ ক্ষেত্রের রুপ পায়। পুজোর দিন পাঠা বলি হয়। এবছর নিষ্টা সহকারে পুজো হচ্ছে। তাই এখোন জোর কদমে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। আর তাই এই পুজো দেখতে প্রচুর মানুষ ভিড় করছে এই পুজো প্রাঙ্গণে প্রতিবছর মতো এবছর ।

Dailyhunt
Disclaimer: This story is auto-aggregated by a computer program and has not been created or edited by Dailyhunt. Publisher: Sob Khobor
Top